কারও পায়ে কামড়, কাউকে আঁচড়, আক্রমণের ধরণ ছিল ভয়ঙ্কর। পরে প্রত্যেককেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চিকিৎসক থেকে নার্স, এমনকি রোগীর আত্মীয়রাও। কুকুরের ভয়ে অনেকেই হাসপাতাল চত্বরে চলাফেরা করতেই সাহস পাচ্ছেন না।
advertisement
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানান, “চারটি কুকুর আচমকা যাকে সামনে পাচ্ছে, তাকেই কামড়াচ্ছে। অন্তত ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি পুরসভাকে জানানো হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার একাংশের মানুষ। প্রতিদিনই রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হয় কর্মীদের। তার উপর বর্তমানে ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ ও নথি সংশোধনের জন্য প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। হাসপাতালের জন্ম শংসাপত্র বিভাগে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের ভিড় হচ্ছে। এই ভিড়ের মধ্যেই আচমকা চারটি কুকুর হাসপাতাল চত্বরে ছুটে এসে আক্রমণ চালায়।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! বেলদা-নারায়ণগড়ে আধুনিক দমকল কেন্দ্রের কাজ শুরু, রাজ্যের বরাদ্দ প্রায় ৪ কোটি
অ্যাম্বুল্যান্স চালক কার্তিক মাঝি বলেন, “গাড়ির কাছে যেতেই একটি কালো রঙের কুকুর ছুটে এসে কামড় দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন নিয়েছি।” নৈশ প্রহরী মিঠুন মণ্ডল ইমার্জেন্সি থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকলেও রেহাই পাননি। তাঁর কথায়, “এতদিন হাসপাতালে কাজ করছি, কিন্তু খোদ হাসপাতালে কুকুরের কামড় খাব ভাবিনি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
হাসপাতালের আয়া সুলেখা বৈরাগ্য ইমার্জেন্সি গেট দিয়ে নামার সময় আক্রান্ত হন। রোগীর আত্মীয় শিখা দত্ত বলেন, “আত্মীয়কে দেখতে এসেছিলাম, আমাকেও কুকুরে কামড় দিয়েছে।” অ্যাম্বুল্যান্স মালিক কিংশুক মণ্ডলও আক্রান্তদের তালিকায় রয়েছেন। এই ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন হাসপাতালের নার্সরাও। নার্স সুতপা পাল জানান, “বাইরে এত কুকুর ঘোরাঘুরি করছে যে ডিউটি শেষে কোয়ার্টারে ফিরব কীভাবে, সেটাই ভাবছি।”
এই বিষয়ে কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমলাকান্ত চক্রবর্তী জানান, হাসপাতাল সুপারের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি চিকিৎসা কেন্দ্র যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানেই এমন আতঙ্কের ছবি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলে দিল হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা ও পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।






