পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট্ট এক গ্রাম সোনাপলাশী। এখানকারই ভূমিপুত্র অভিনেতা সন্তোষ দত্ত। বাবা কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকতেন। সেখানেই বেড়ে ওঠা তাঁর। পেশাগত জীবনে আইনবিদ্যার কঠোর পাঠ শেষ করে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য হয়তো তাঁর জন্য লিখে রেখেছিল অন্য কোনও চিত্রনাট্য।
advertisement
সম্ভবত ১৯৫৮ সালে প্রথমবার সত্যজিৎ রায়ের ‘পরশ পাথর’ সিনেমায় একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পান সন্তোষবাবু। এরপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’র জটায়ু থেকে ‘গুপি গাইন বাগা বাইন’, ‘হিরক রাজার দেশে’, উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘ওগো বধু সুন্দরী’র অবলা কান্তের চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও চোখ বন্ধ করলে অনেকের মনে ভেসে ওঠে।
তবে পূর্ব বর্ধমান জেলা সোনাপলাশী গ্রামে এই কিংবদন্তি অভিনেতার স্মৃতি বলতে প্রায় কিছুই নেই। শুধু রয়েছে তাঁর কেনা একটি জায়গা এবং দিদির বাড়ির দেওয়ালে রয়েছে তাঁর একটি ছবি, সেটাও প্রায় মলিন হয়ে এসেছে। জায়গাটিও পড়ে রয়েছে অবহেলায়। গ্রামবাসীরা চান, সন্তোষ দত্তের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার বা কোনও সংস্থা উদ্যোগ নিক। যাতে বর্তমান প্রজন্ম এই পৈতৃক ভিটে ও সোনাপলাশী গ্রামের কথা জানতে পারে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সব মিলিয়ে, সন্তোষ দত্তের অমর সংলাপগুলি আজও বাঙালির কানে বাজলেও তাঁর পৈতৃক ভিটে অবহেলার ধুলোয় ধূসর। গ্রামবাসীরা চান, সোনাপলাশী গ্রামে বাঁচিয়ে রাখা হোক অভিনেতার স্মৃতি, যা বর্তমান প্রজন্মকে জানাবে সন্তোষ দত্তের শিকড়ের কথা।





