আর সেই পরীক্ষায় বসতে যদি প্রতিদিন জঙ্গল পেরিয়ে যেতে হয়, তা হলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।জলপাইগুড়ি জেলার জঙ্গলঘেরা একাধিক এলাকার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল বন দফতর। পরীক্ষার্থীদের যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে ও ফেরার পথে কোনও রকম সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই বন দফতরের পক্ষ থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গরুমারা ডিভিশনে প্রায় ৪০টি গাড়ি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন গরুমারা ডিভিশনের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন।
advertisement
পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার হবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি গাড়ি এবং জরুরী কালীন পরিস্থিতিতে বন কর্মীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হবে ১০ থেকে ১৫ টি গাড়ি। তিনি জানান, বিগত বছরগুলিতে জঙ্গলপথে যাতায়াত করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। কখনও বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক, কখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি। সবমিলিয়ে পরীক্ষার দিনগুলি ছিল দুশ্চিন্তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগে পরিকল্পনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনদফতরের তরফে বিভিন্ন বনবস্তির পরীক্ষার্থীদের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কোনও এলাকা থেকে কতজন পরীক্ষার্থী, তাদের নাম, ফোন নম্বর রাখা হয়েছে এবং কোন পথে নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব, সবকিছু খতিয়ে দেখে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি ডিভিশন, গরুমারা ডিভিশন ও বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের বহু পরীক্ষার্থী প্রতিদিন জঙ্গলপথ ব্যবহার করে কেন্দ্রে যাতায়াত করে। পরীক্ষার দিনগুলিতে এই সমস্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারিও রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। বন দফতরের এই মানবিক উদ্যোগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় নিশ্চিন্ত মনেই এবার পরীক্ষায় বসতে পারবে জঙ্গলঘেরা এলাকার পড়ুয়ারা। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।





