পশ্চিমাঞ্চলের মুখ্য বনপাল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, জঙ্গলমহলে গত কয়েক বছরে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। বিশেষ করে হাতির সংখ্যা গত কুড়ি বছরে প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা এই অঞ্চলের পরিবেশগত উন্নতিরই ইঙ্গিত দেয়। হাতির পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্ব ও বিস্তার জঙ্গলমহলের জীববৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, জঙ্গলমহলের বনাঞ্চল এখনও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ও বিস্তৃত। শুধু তাই নয় বন্যপ্রাণীর বসবাসযোগ্য বিস্তৃত আবাসভূমি রয়েছে, যেখানে প্রাণীরা নিরাপদে বিচরণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যের প্রাচুর্য। ঘাস, ফলমূল ও ছোট প্রাণীর সহজলভ্যতা বন্যপ্রাণীদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে সহায়ক হচ্ছে। পাশাপাশি, বন দফতরের নজরদারি বৃদ্ধি ও শিকার রোধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াও একটি বড় কারণ। একইভাবে মানুষের সচেতনতা আরও বেশি করে বন্যপ্রাণের স্বাভাবিক বিচরণে সাহায্য করেছে।
এছাড়াও জঙ্গলমহলের আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিভিন্ন প্রাণীর প্রজননের জন্য অত্যন্ত অনুকূল বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। বনাঞ্চলের জলাধার, পাহাড়ি ঢাল ও ঘন অরণ্য বন্যপ্রাণীদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে শুধু হাতি নয়, অন্যান্য স্তন্যপায়ী ও পক্ষী প্রজাতির সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক হলেও এর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সচেতনতা, বন সংরক্ষণ ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জঙ্গলমহলের এই সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণ জগতকে রক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। স্বাভাবিকভাবে জঙ্গলমহলে বন্যপ্রাণের সংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ ও স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষেত্রে বেশ উপকারী।





