TRENDING:

Success Story: সামান্য পড়াশোনা, তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে প্রধান বক্তা রোশেনারা খান! জীবনের কাহিনি শুনলে চমকে যাবেন

Last Updated:

Success Story: স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনে একাকীত্ব এলেও সেই শূন্যতাকে শক্তিতে রূপ দিয়েছে তাঁর লেখনী। আজও তিনি বিভিন্ন স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। কুর্নিশ ...

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। তখনও নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সংসার, দায়িত্ব কিংবা ভবিষ্যতের কথা ঠিকভাবে বোঝার আগেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। কিন্তু সেই প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজের শক্তি ও সাহস খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি।
advertisement

আজ প্রায় ৬৯ বছর বয়সে সমাজকর্মী ও লেখিকা হিসেবে পরিচিত রোশেনারা খান বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় জন্ম রোশেনারা খানের। বিয়ের পর দীর্ঘদিন কেশপুরে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে হয় তাঁকে। বর্তমানে তিনি মেদিনীপুর শহরে বসবাস করছেন।

পড়াশোনা খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি– স্কুলের গণ্ডি পর্যন্তই তাঁর শিক্ষাজীবন সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু শেখার আগ্রহ এবং বই পড়ার নেশা তাঁকে অন্য পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই সমাজের নানা রক্ষণশীলতা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তবে এসব মেনে নেওয়ার বদলে তিনি ধীরে ধীরে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বিভিন্ন বই পড়তে পড়তে তার মধ্যে লেখালেখির আগ্রহ জন্মায়। স্বামীর সহযোগিতায় তিনি লিখতে শুরু করেন গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ।

advertisement

আরও পড়ুন: ১৭২ বছরের ঐতিহ্যের হাওড়া স্টেশন, এবার খোলনলচে বদলানোর সময়! টার্গেট ২০৩০-এ ভারতীয় রেলের বড় উদ্যোগ

View More

তাঁর লেখায় উঠে এসেছে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সমাজে নারীদের উপর ঘটে চলা অন্যায় ও বিভিন্ন সামাজিক ট্যাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। পড়াশোনা খুব বেশি দূর এগোতে না পারলেও স্কুলের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর শিক্ষাজীবন। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের প্রতি প্রবল আগ্রহ ও জীবনের অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজ অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে তিনি সমাজ, নারী অধিকার, শিক্ষা ও জীবনসংগ্রামের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

advertisement

আরও পড়ুন: বিচারব‍্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে ক্লাস ৮-এর অধ্যায়, বিবৃতি দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল এনসিইআরটি! বইটিই আর পাওয়া যাবে না

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনাসভায় তিনি প্রধান বক্তা হিসেবেও অংশগ্রহণ করেন। রোশেনারা খানের লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর একাধিক বই পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তিনি পেয়েছেন ‘বিদ্যাসাগর সম্মান’। তাঁর লেখা একটি বই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ইংরেজিতে অনুবাদও করা হয়েছে। বয়স প্রায় সত্তরের কাছাকাছি পৌঁছলেও থেমে নেই তাঁর কলম। ভ্রমণ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সমাজের নানা বিষয় কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে লিখে চলেছেন তিনি।

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
বিদ্যালয়ে চরম দুরাবস্থা! নেই পানীয় জল ও চলাচল যোগ্য রাস্তা, সমাধানের আশ্বাস পঞ্চায়েতের
আরও দেখুন

স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনে একাকিত্ব এলেও সেই শূন্যতাকে শক্তিতে রূপ দিয়েছে তাঁর লেখনী। আজও তিনি বিভিন্ন স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন এবং নতুন প্রজন্মকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলার বার্তা দেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার বার্তা দেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার সাহস জোগান। তাঁর সরল অথচ শক্তিশালী বক্তব্য শ্রোতাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

advertisement

বাংলা খবর/ খবর/শিক্ষা/
Success Story: সামান্য পড়াশোনা, তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে প্রধান বক্তা রোশেনারা খান! জীবনের কাহিনি শুনলে চমকে যাবেন
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল