Indian Railways: ১৭২ বছরের ঐতিহ্যের হাওড়া স্টেশন, এবার খোলনলচে বদলানোর সময়! টার্গেট ২০৩০-এ ভারতীয় রেলের বড় উদ্যোগ
- Published by:Raima Chakraborty
- news18 bangla
Last Updated:
Indian Railways: ট্রেন চলাচল আরও বাড়াতে ও যাত্রীদের সুবিধের কথা মাথায় রেখে আমূল বদলাতে চলেছে হাওড়া স্টেশন। রেলের টার্গেট ২০৩০।
advertisement
কয়েক দশক ধরে, স্টেশনটি কলকাতার প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন, যা এটিকে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিবহণ কেন্দ্র করে তুলেছে। তবে, যাত্রী সংখ্যা এবং ট্রেন পরিষেবার ক্রমাগত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, স্টেশনটি প্রচণ্ড কর্মক্ষমতার চাপের মধ্যে পড়েছে।
advertisement
ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং যাত্রী সুবিধা উন্নত করার জন্য, ভারতীয় রেলওয়ে হাওড়া স্টেশনের জন্য একটি বৃহৎ আকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। লক্ষ্য হল স্টেশনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনাল থেকে আরও বেশি ট্রেন চলাচল করতে পারে এবং একই সাথে উন্নত অবকাঠামো এবং মসৃণ যাত্রী চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
advertisement
১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে হাওড়া স্টেশনের বেশ কয়েকটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে রেল চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ক্রমবর্ধমান ট্রেনের সংখ্যা পরিচালনা করার জন্য অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছিল। ১৯০৫ সালে, ছয়টি নতুন প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করা হয়, যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। পরবর্তীতে, ১৯৮৪ সালে, আরও আটটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়, যার ফলে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫টিতে।
advertisement
১৯৯২ সালে আরও উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, যখন চারটি অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম সহ একটি নতুন টার্মিনাল ভবন চালু করা হয়। ২০০৯ সালে স্টেশনটি আবার সম্প্রসারিত হয়, যার ফলে মোট প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা ২৩টিতে উন্নীত হয়। এই সম্প্রসারণের ফলে পূর্ব ভারতে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে, যাত্রী সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায়, কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে আরও উন্নয়ন এখন অপরিহার্য।
advertisement
রেলওয়ে দেশের প্রধান শহরগুলি থেকে ট্রেন পরিষেবা বৃদ্ধির জন্য একটি বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। আগামী পাঁচ বছরে, লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে কেন্দ্রগুলি থেকে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা। হাওড়া স্টেশন এই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এটি দূরপাল্লার পাশাপাশি শহরতলির রেল পরিষেবার জন্য একটি প্রধান জংশন হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
advertisement
পূর্ব রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তার মতে, স্টেশনের পরিচালনা ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। স্টেশনের অন্যতম প্রধান আপগ্রেড হল প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১৫, যা সম্প্রতি পুনর্নির্মাণ এবং উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ধিত করা হয়েছে। পূর্বে, প্ল্যাটফর্মটির পরিমাপ ৩১২ মিটার ছিল এবং এটি মূলত ১২টি কোচ বিশিষ্ট লোকাল ট্রেনের জন্য ব্যবহৃত হত। আপগ্রেডেশনের পর, এর দৈর্ঘ্য ৫৯১ মিটারে উন্নীত করা হয়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে এখন ২২ থেকে ২৪টি কোচ বিশিষ্ট দূরপাল্লার মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি প্ল্যাটফর্মে আরামে থামতে পারবে।
advertisement
আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মটিও দীর্ঘ করা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৫৮১ মিটারে উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ ট্রেন চলাচলের সুবিধা হবে। এই সম্প্রসারণের ফলে স্টেশনে আসা ট্রেনগুলির অপেক্ষার সময় কমবে এবং সামগ্রিক পরিচালন দক্ষতা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মগুলি আপগ্রেড করার পাশাপাশি, রেলওয়ে হাওড়া স্টেশনে দুটি সম্পূর্ণ নতুন প্ল্যাটফর্মও নির্মাণ করছে।
advertisement
advertisement
এই নতুন প্ল্যাটফর্মগুলি যুক্ত হওয়ার ফলে স্টেশনে ট্রেন চলাচল সহজতর হবে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় শহরতলির ট্রেনগুলিকে দূরপাল্লার পরিষেবা থেকে পৃথক করার পরিকল্পনা করছে, যা সময়সূচী সহজ করবে এবং বিলম্ব কমাবে। এই পৃথকীকরণের ফলে সময়ানুবর্তিতা উন্নত হবে এবং ব্যস্ত স্টেশনের মধ্য দিয়ে ট্রেনগুলির চলাচল মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







