ইলিশের স্বাদ খাদ্য রসিকদের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালে ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জে সেভাবে দেখা মিলছে না এই রুপোলি শস্যের। তাই বর্ষায় ইলিশের জোগান বজায় রাখতে ছোট ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। অথচ নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ফরাক্কা ব্যারেজ এলাকায় ছোট ফাঁসের জালে সম্প্রতি দেদার ধরা হচ্ছে ছোট ইলিশ। আর তাতেই এবার প্রতিবাদে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।এমনকি বিষয়টি জানানো হয়েছে মৎস্য দফতরেও।
advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা অরুণময় জানিয়েছেন, মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। ফরাক্কা ব্যারেজ এলাকায় গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোগ্রাম করে ইলিশ মাছ আসছে। মাছগুলি মেরেকেটে ৪০০ গ্রাম ওজনের। কোনও কোনওটি ৭০০-৮০০ গ্রামের। কম ওজনের ওই ইলিশগুলি ফরাক্কা, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর সহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭০০ টাকা কিলোগ্রাম দরে। একটু বড় আকৃতির মাছগুলি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা কিলো দরে।
মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, তাঁদের একাংশ ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে ফরাক্কা ব্যারেজ এলাকায় ওই ইলিশ ধরছেন। ছোট ফাঁসের জাল হওয়ায় খোকা ইলিশ ধরা পড়ছে। ফরাক্কার বাসিন্দারা বলেন, “কয়েকদিন হল ফরাক্কা এলাকায় বাজারে প্রচুর ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরাই সেগুলি ধরছেন। এখন এত ছোট ইলিশ ধরা হলে বর্ষায় বড় ইলিশ আদৌ পাওয়া যাবে কি না সন্দেহের।”
যদিও ফরাক্কা ব্যারেজের মৎস্য দফতর আধিকারিক করমবীর সিং জানিয়েছেন, খোকা ইলিশের জন্য বেশ কিছু নির্দেশিকা রয়েছে। ৯০ মিলিমিটারের কম ফাঁসযুক্ত জাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। ৯ ইঞ্চি বা ২৩ সেন্টিমিটার আকৃতির ইলিশ বিক্রি ও কেনা দু’টিই অপরাধ। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোগ্রাম ইলিশ ধরা পড়ছে। ছোট ইলিশ গড়ে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার বন্ধে প্রচার চালানো হবে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এই শীতের বিদায়ে ফরাক্কাতে ইলিশ আসছে কীভাবে তাতে উঠছে প্রশ্ন।





