আরও পড়ুনঃ হেমা মালিনী এখনও ধর্মেন্দ্রর ‘ইক্কিস’ দেখেননি; ‘ক্ষতগুলো সেরে গেলে ছবিটি দেখব’
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বিদ্যুৎ ও আবাসন দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ৯ই জানুয়ারী থেকে ১৭ই জানুয়ারী অবধি গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের জন্য মাথা পিছু পাঁচ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনাকালীন জীবনবীমা ঘোষণা করেছেন। তীর্থযাত্রী, সরকারী কর্মী, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, পরিবহন কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীদেরও এই বীমার আওতায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনকে জি. পি. এস. ট্র্যাকিং এর সাহায্যে নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে এবং মেগা কন্ট্রোল রুম থেকে পিলগ্রিম ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (PTMS) অর্থাৎ তীর্থযাত্রী পরিবহন পরিচালন ব্যবস্থা দিবারাত্রি পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাতে সমস্ত যাত্রীবাহী বাস, লঞ্চ জি.পি.এস ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ও সহায়তায় প্রতিটি বাসে একজন করে সাগরবন্ধু থাকছেন। যাত্রাপথে দুর্ঘটনা এড়াতে ও যাত্রাপথ সুরক্ষিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি যানবাহনে সর্বাধিক গতিসীমা ৪০ কিমি (প্রতি ঘন্টায়) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে হাওড়া, শিয়ালদহ ও নামখানা থেকে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি বার্জ এবং ভেসেলে ম্যানপ্যাকসহ প্রহরায় থাকছেন সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ কর্মী।
advertisement
কলকাতার বাবুঘাট থেকে সাগর মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত যাত্রাপথে ১৬টি বাফার জোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বাফার জোনগুলিতে জেটি ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাসগুলিকে নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। তীর্থযাত্রীদের জন্য প্রতিটি বাফার জোনে শৌচালয়, পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিশ্রামের সুবন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০টি ড্রোনের সাহায্যে নজরদারী করা হচ্ছে। ১২০০টি সি.সি.টি.ভি, ১০টি স্যাটেলাইট ফোন এবং ১৫০টি ম্যানপ্যাক এর মাধ্যমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার বিভিন্ন স্থানের ওপরে প্রতিনিয়ত সতর্ক নজরদারী রাখা হচ্ছে।
ঘন কুয়াশায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীতে থাকা বিদ্যুৎ দফতরের টাওয়ারে এবং জেটিতে শক্তিশালী কুয়াশাভেদী আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাগর সঙ্গমে পুণ্যস্নানের স্মৃতি অক্ষয় করে রাখতে তীর্থযাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূলো নিজের ছবি সম্বলিত শংসাপত্র এবার পেয়ে যাচ্ছেন বন্ধন নামের ফটোবুখে। সাগরে সর্বমোট বন্ধন ফটোবুথের সংখ্যা ১৩ টি। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪.৫ লক্ষ পুণ্যার্থী ছবি সম্বলিত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন।গত ১১ই জানুয়ারি থেকে ১৩ই জানুয়ারি পর্যন্ত “সাগর কথা” নামে এক আধ্যাত্মিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং দেশ বিদেশের ভক্ত সদস্যদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে গঙ্গাসাগরের এই মঞ্চ আধ্যাত্মিক ও শান্তির বার্তী প্রচারের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মেলা সম্পর্কিত যাবতীয় বিবরণ তীর্থযাত্রীদের কাছে তুলে ধরার জন্য বসানো হয়েছে ৩৯ টি জায়েন্ট স্ক্রিন ও ২০টি LED ভ্যান।
এছাড়াও তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্য ৭টি ওয়াই ফাই জোনস, বিনামূল্যে ওয়াই ফাই কলিং বুথস, ১০টি স্যাটেলাইট ফোন এবং ৭৬০টি ম্যানপ্যাকেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ২৫ টি পকেটমারীর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০ টি ক্ষেত্রে খোওয়া যাওয়া বস্তু উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। ও ১১২ জনকে বিভিন্ন অপরাধমূলক জনিত কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত মেলায় হারিয়ে যাওয়া ৮৮৯ জন তীর্থযাত্রীদের মধ্যে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ৮৩৫ জন তীর্থযাত্রী তাদের পরিজনদের খুঁজে পেতে সমর্থ হয়েছে।






