জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট এবং অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করে তা দিয়ে তৈরি করা হবে বিভিন্ন শৈল্পিক স্থাপত্য। এই ভাস্কর্যগুলি স্থাপন করা হবে দিঘা, মন্দারমণি বা হলদিয়ার মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন পার্কে। মূল লক্ষ্য দুটি। প্রথমত, প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিতীয়ত, পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকাগুলি থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক জমা হয়, তা নিয়ে মাথাব্যথার শেষ ছিল না প্রশাসনের। সাধারণ পদ্ধতিতে এই প্লাস্টিক নষ্ট করা কঠিন এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সেই কারণেই এই সৃজনশীল ভাবনা।
advertisement
এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক মানস কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, “প্লাস্টিক দূষণ কমাতে নতুন পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। প্লাস্টিক থেকেই গড়ে উঠবে ভাস্কর্য। একটি বিশাল প্লাস্টিকের তিমির প্রতিকৃতি বা কোনও প্রাকৃতিক দৃশ্য যদি প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি করে পার্কের সামনে রাখা হয়, তবে তা পর্যটকদের মনে যেমন কৌতূহল জাগাবে। তেমনই প্লাস্টিকের ভয়াবহতা সম্পর্কে নিঃশব্দে সতর্কও করবে।” পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকায় প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যত্রতত্র চিপসের প্যাকেট বা জলের বোতল ফেলার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। ফলে এবার জেলায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে একদিকে যেমন সচেতন তার বার্তা অন্যদিকে ভাস্কর্য তৈরি বর্জ্য প্লাস্টিক থেকে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পীদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে প্লাস্টিক যে কেবল আবর্জনা নয়, তাকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে সৌন্দর্যায়ন সম্ভব সেই বার্তাও পৌঁছাবে জনমানসে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্লকে প্লাস্টিক সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত সেই প্লাস্টিক প্রসেসিং ইউনিটে নিয়ে গিয়ে বাছাই করা হবে এবং শিল্পী ও কারিগরদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রশাসনের আশা, এই মডেল সফল হলে শুধু জেলা নয়, রাজ্যের কাছে প্লাস্টিক মোকাবিলায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করবে পূর্ব মেদিনীপুর।





