এই ‘মাতৃপূজন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল প্রায় ৯০ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী। উদ্দেশ্য একটাই। ছোটবেলা থেকেই যেন শিশুরা বুঝতে পারে যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ তাদের বাবা-মা। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। প্রথাগত মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি সেখানে মূর্ত হয়ে উঠেছিল মানবিকতার এক শ্রেষ্ঠ রূপ। এদিন এক অপরূপ শ্রদ্ধার্ঘ্যের চিত্র উঠে এল।
advertisement
এদিন দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সারিবদ্ধভাবে মায়েরা বসে আছেন এবং তাঁদের সামনে বসে রয়েছে তাঁদেরই সন্তানরা। শিশুরা পরম যত্নে মায়ের পা ধুয়ে মুছে দিচ্ছে। গলায় পরিয়ে দিচ্ছে শ্রদ্ধার মালা। মিষ্টান্ন ও ফল সহযোগে মাকে নিবেদন করছে অন্তরের ভালবাসা। মায়েরা যখন তাঁদের সন্তানদের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছিলেন, তখন অনেকের চোখেই ছিল জল।
কোনও মন্দির বা প্যান্ডেল নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের এই প্রাঙ্গণটিই তখন হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত তীর্থস্থান। উপস্থিত মায়েরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন নৈতিক শিক্ষার অভাব প্রকট হয়ে উঠছে, তখন এই ধরনের অনুষ্ঠান শিশুদের মানসিকভাবে ঋদ্ধ করবে। এক অভিভাবকের কথায়, “সমাজে বাবা-মাকে অবহেলার ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই ধরণের সংস্কারমূলক অনুষ্ঠান আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি জীবনের শিক্ষা।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের মনে যদি ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের প্রতি এই শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ গেঁথে দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে আর কোনও বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমের পথ ধরতে হবে না। মহিষাদলের এই ‘মাতৃপূজন’ উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে মূল্যবোধ জাগরণের এক শক্তিশালী মাধ্যম। যখন চারিদিকে সম্পর্কের ফাটল ধরার খবর বেশি শোনা যায়। তখন মহিষাদলের এই প্রচেষ্টা সমাজকে এক নতুন দিশা দেখালো।





