রাতের শহর যখন নিস্তব্ধ, তখন বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সাইকেলে চেপে বেরিয়ে পড়ে সে। সঙ্গে থাকে ভাত, মুরগির মেটে সহ বেশ কিছু খাবার। কাটোয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি পথ কুকুরের মুখে খাবার তুলে দেয় নন্দিনী। তার কথায়, লকডাউনের সময় থেকেই এই কাজের শুরু। খাবারের অভাবে অসহায় হয়ে পড়া পথ কুকুরগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তার এই পথচলা। এই বিষয়ে নন্দিনী বলেন, “বহু বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কুকুরদের খাবার খাওয়ালে অনেকের অসুবিধা হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: শীতের শেষবেলায় জমাটি ঠান্ডা পাহাড়ে, মজা লুটে নিচ্ছেন পর্যটকরা! আগামী সপ্তাহে ঘুরে যেতে পারে খেলা
তাই সবাই যখন ঘুমিয়ে যায়, গভীর রাতে আমি খাবার খাওয়াতে বেরোয়।” প্রতিদিন রাত বারোটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাবা-মেয়ে ফিরছে প্রায় রাত তিনটেয়। কুকুরদের জন্য রান্না হয় প্রায় ১০ কেজি চালের ভাত। মাস শেষে খাবারের খরচ দাঁড়ায় বড় অঙ্কে। নন্দিনীর বাবা পেশায় একজন গৃহশিক্ষক। টিউশন পড়িয়ে যা সামান্য রোজগার হয়, তা দিয়েই মেয়ের এই মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। যদিও কিছু মানুষ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মাঝেমধ্যে সাহায্য মেলে, তবু আর্থিক চাপ থেকেই যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পথ কুকুরদের খাবার খাওয়ানো নিয়ে কটূক্তিও শুনতে হয় নন্দিনীকে। কিন্তু সেসব উপেক্ষা করেই সে আজও পাশে দাঁড়ায় অবলা প্রাণীগুলির। নন্দিনীর বাবা মহম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, “যতদিন পারবো আমি ওর পাশে থাকবো। আশা রাখি ও ভবিষ্যতে চাকরী পেয়ে এভাবেই পথ কুকুরদের পাশে থাকবে।”গভীর রাতে, যখন চারপাশে কেউ থাকে না, তখন পথ কুকুরদের কাছে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে কাটোয়া শহরের এই পড়ুয়া নন্দিনী। পরীক্ষার চাপের মধ্যেও মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত সে তৈরি করেছে, তা সত্যিই অনন্য।





