নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সারতেও একইভাবে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। মহিলাদেরও বাধ্য হয়ে ওই মই বেয়েই নদীতে নামছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কণিকা ঘোষ বলেন, “আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে মই বেয়ে নিচে নামতে। কিন্তু কিছুই করার নেই ভয় লাগলেও ঝুঁকি নিয়েই নামতে হয়।”
advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলার সীতাহাটি পঞ্চায়েতের পাশেই ব্রহ্মাণীতলায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিবের ঘাট। বহু বছর ধরে এই ঘাটেই সীতাহাটি, সুজাপুর-সহ আশেপাশের গ্রামের মানুষ স্নান করেন। অনেকেই এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সারেন। ভট্টাচার্য পরিবারের প্রাচীন শিবমন্দিরেও পুজোর জন্য এই ঘাট থেকেই ভাগীরথীর জল তোলা হয়। কিন্তু ভয়াবহ ভাঙনের জেরে এখন পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। নদীর পাড় ভেঙে প্রায় তিরিশ ফুট গভীর খাল তৈরি হয়েছে। পাড়ের বড় বড় গাছের শিকড় পর্যন্ত উপড়ে গিয়েছে।
বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে একটি লম্বা মই তৈরি করেছেন। সেই মই বেয়েই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নামছেন তাঁরা। এক স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে আমাদের এই ঘাটে নামতে হয়। তাছাড়া এটা অনেক প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ঘাট। দ্রুত সংস্কার করা গেলে বহু মানুষের উপকার হবে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে শুধু ঘাটই নয়, ভাঙনের থাবা ক্রমশ বাড়ছে আশেপাশের এলাকাতেও। শাঁখাই ও উদ্ধারণপুরের সংযোগকারী রাস্তা ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। শাঁখাইয়ের রাস্তাতেও একাধিক জায়গায় ধস নামছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে মৌগ্রাম, রঘুপুর-সহ আরও কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙন রোধের দাবিতে সেচ দফতরের কাছে চিঠি দিয়েছে কেতুগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতি।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যেই সেচ দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দফতরের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গিয়েছেন। তাঁর আশা, দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভাগীরথীর ভাঙনের আতঙ্ক নিয়েই এখন দিন কাটাচ্ছেন সীতাহাটির বাসিন্দারা। প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই নামতে হচ্ছে নদীর ঘাটে।





