এই আবহে এই আলাদা করে নজর কেড়েছেন সিপিআইএমের এবারের নতুন মুখ শরদিন্দু চক্রবর্তী। একসময়ের লাল দুর্গ ছিল শিলিগুড়ি, যেখান থেকে বারবার জয়ী হয়েছিলেন অশোক ভট্টাচার্য তবে ২০২১ সালে হাতছাড়া হয়ে যায়, দখল নেয় বিজেপি। সেই হারানো জমি ফিরে পেতে এবার তরুণ প্রার্থীকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নেমেছে সিপিআইএম।
advertisement
সকাল থেকে রাত প্রচারের ব্যস্ততায় প্রায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়েছেন শরদিন্দু। তবে এই দৌড়ঝাপের মাঝেও তাঁর শক্তির আসল যোগান দাতা বাড়িতেই। তাঁর স্ত্রীই নিয়ম করে খাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। যে কারণে বাধ্য হয়ে প্রচারের মাঝেই খাওয়া-দাওয়ার জন্য বাড়ি ফিরে যেতে হয় শরদিন্দু বাবুকে।
লোকাল ১৮ বাংলার মুখোমুখি হয়ে শরদিন্দু জানালেন দিনের শুরু থেকে আমি প্রায় একশ শতাংশ নির্ভর করি আমার স্ত্রীর ওপর। তিনিও একসময় দল করতেন, তাই আমার পরিস্থিতি আমার স্ত্রী ভাল করে বোঝে। যে কারণে আমার সমস্ত দায়িত্ব সেই গ্রহণ করে। বিশেষ করে এই গরমে ভারি খাবার নয়, হালকা খাবারই ভরসা যে কারণে দুপুর হলেই শরদিন্দুবাবু বাড়ি পৌঁছে যান সেখানে অপেক্ষা করে থাকে সাদামাটা খাবার। ডাল-ভাত সঙ্গে ছোট মাছের কালো জিরা দিয়ে ঝোল। মূলত কালো জিরে আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে রান্না এই সাধারণ মেনুই তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।
শুধু স্বাদের জন্য নয়, এই সাদামাটা খাবারের পেছনে রয়েছে এক ব্যক্তিগত দর্শনও। বহু বছর আগে প্রচারের সূত্রে ভেনিজুয়েলায় গিয়েছিলেন শরদিন্দু। সেখানকার সাদাসিধে কম তেল মশলার খাবারের অভ্যাস তাকে প্রভাবিত করে এবং তখন থেকেই তিনি বিশ্বাস করেন সরল খাবারই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
তাই প্রচারের ফাঁকে কোথাও নিমন্ত্রণ এলেও মেনুতে পরিবর্তন নেই। যতটা সম্ভব হয় হালকা, সেদ্ধ বা কম মশলার খাবারই বেছে নিচ্ছেন তিনি। রাজনীতির উত্তাপের মাঝে তাই শরদিন্দুর লড়াইটা শুধু ভোটের ময়দানেই নয় নিজের শরীরকে ঠিক রাখার লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর সেই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় সঙ্গী এক প্লেট গরম ডাল ভাত আর বাড়ির যত্ন।





