আর পাঁচটা দিনের মতোই ব্যাঙ্কের কাজ সামলাচ্ছিলেন ব্রাঞ্চের ম্যানেজার। কিন্তু সে সময়েই এক ব্যক্তি কিছু সোনার গয়না নিয়ে আসেন। ব্যাঙ্কে স্বর্ণ বন্ধকী ঋণ নেওয়ার জন্য। ওই ব্যক্তি আনা সোনার গয়নার মধ্যে ছিল একটি চেন বা গলার হার, দু’টি কানের দুল এবং একটি আংটি। ওই ব্যক্তির আনা সোনার গহনাগুলি ঋণ দেওয়ার আগে পরীক্ষা করার সময় ব্যাংকের স্বর্ণ যাচাইকারী কর্মী বুঝতে পারেন গয়নাগুলি আসলে নকল। তারপরেই ওই কর্মী ব্যাংক ম্যানেজারকে জানান। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানা অন্তর্গত কাঁকটিয়া বাজারে তমলুক ঘাটাল কো-অপারেটিভ সেন্ট্রাল ব্যাংকের নোনাকুড়ি শাখায়।
advertisement
তমলুক ঘাটাল কো-অপারেটিভ সেন্ট্রাল ব্যাংকের ওই শাখার ম্যানেজার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাঙ্কের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হন। ঋণ নিতে আসা ওই ব্যক্তির কাছে নকল সোনার সোনার গয়নার পরিমাণ বেশি তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তমলুক থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করে তমলুক থানায় নিয়ে যায়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরও এক মহিলা ছিল। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠিয়েছে। ঐ ব্যক্তির নাম স্বপন কুমার বেরা, ভিতরগড় গ্রামের বাসিন্দা।
নকল সোনা ব্যাঙ্কে নিয়ে এসে ঋণ নেওয়ার চেষ্টার বিষয়ে তমলুক ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মলয় সরকার জানিয়েছেন, “আমাদের ওই শাখার প্রবন্ধক জানায়, তাঁর ব্রাঞ্চে এক ব্যক্তি বেশ কিছু নকল সোনার গয়না নিয়ে স্বর্ণ বন্ধকী ঋণ নিতে এসেছেন। সোনার গয়না পরীক্ষার সময় তা ধরা পড়ে। আমরা থানায় খবর দিতে বলি। পরে তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগও জানানও হয়। এর আগেও এভাবে বিভিন্ন সংস্থায় গোল্ড লোনে প্রতারণা করেছে এই ধরণের অসাধু ব্যক্তিরা। আমরা পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি অভিযুক্তদের যাতে কঠোর শাস্তি হয়।” তমলুক থানা যায় ধৃতদের এদিন তমলুক জেলা আদালতে তোলা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে বাজার এলাকায় শোরগোল পড়ে।






