অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী ও গ্রামীণ খেলাগুলিকে নতুনভাবে তুলে ধরা। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘লোহার বল ছোড়া’ প্রতিযোগিতা। নির্দিষ্ট স্থান থেকে ভারি লোহার বল যত দূরে ছুড়তে পারবে, সেই অনুযায়ী বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও ছিল ‘হাড়ি ভাঙা’ খেলা, যেখানে চোখে কাপড় বেঁধে লম্বা বাঁশ দিয়ে একটি ড্রামকে আঘাত করতে হয়। ড্রামের শব্দের মাধ্যমেই প্রতিযোগীরা লক্ষ্য নির্ধারণ করতেন, যা দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী খেলা।
advertisement
আরও একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ছিল ‘চামচে গুলি’ খেলা। মুখে চামচ ধরে তার উপর একটি কাঁচের গুলি রেখে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে হয়। গুলি না ফেলে যে দ্রুততম সময়ে পৌঁছাতে পারবে, সেই বিজয়ী। গুলি পড়ে গেলে প্রতিযোগীকে বাদ পড়তে হয়।
এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সর্বস্তরের প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। নদিয়া জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিবন্ধী সংগঠন ও বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সমাজের মূল স্রোতে তাদের আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে সাহায্য করে। বিদ্যালয়ের প্রায় এক শতাধিক ছেলে মেয়েরা এই খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করেছে এবং প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি। পাশাপাশি, মহান মানবতাবাদী হেলেন কেলারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে কাজ করে চলেছে। সার্বিকভাবে, এই শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আনন্দ, উৎসাহ ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠল।





