পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়দর্শীর মা শিবানী বেসরা কাটোয়া পৌরসভার অধীনে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং বাবা সীতাহাটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট। কর্মসূত্রে তাঁরা কেতুগ্রাম ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সরকারি আবাসনেই পরিবার নিয়ে থাকতেন। ঘটনাটি ঘটে দুপুর প্রায় আড়াইটে থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে। খাওয়া-দাওয়ার পর ঘরের মেঝেতে শুয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেই সময় আচমকাই ছাদের একটি বড় অংশ ভেঙে সরাসরি এসে পড়ে ঘুমন্ত প্রিয়দর্শীর মাথার উপর। পরিবারের অন্য সদস্যরা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও গুরুতর জখম হয় শিশুটি। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও, পথেই মৃত্যু হয় তার। পরে কাটোয়া হাসপাতালে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
advertisement
মৃত শিশুর মা শিবানী বেসরার অভিযোগ, “এই আবাসনের অবস্থা নিয়ে আমরা তিনবার জানিয়েছি। লিখিত অভিযোগও করেছি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময়মতো মেরামত হলে আজ এই ঘটনা ঘটত না।”একই অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির ঠাকুমা নমিতা বেসরাও। তিনি বলেন, “পাঁচ বছর ধরে দরখাস্ত দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছুই হয়নি। এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে, দায়ী করে আর কী হবে!”
পরিবারের দাবি, শুধু তাদের আবাসনই নয়, কেতুগ্রাম ব্লকের অধিকাংশ পুরনো সরকারি আবাসনের অবস্থাই অত্যন্ত খারাপ। কিছু নতুন আবাসন তুলনামূলক ভালো হলেও পুরনো ভবনগুলিতে বসবাস করা কার্যত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বড় প্রশ্ন উঠছে। যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরাই নিজেদের আবাসনে নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ পরিষেবা পাবেন?
এদিকে এসএমওএইচ সৌভিক আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি শুনেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”প্রশাসনের অবহেলা ও দীর্ঘদিনের গাফিলতির জেরে একটি নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে গেল, এই অভিযোগ তুলছেন অনেকেই। এখন দেখার, এই ঘটনার পর আদেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কিনা, নাকি আরও একটি ঘটনা সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী






