চৈতন্যের আবির্ভাব তিথিতে নবদ্বীপ,মায়াপুর,সহ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় আবির মেখে হরিনাম সংকীর্তন সহযোগে গ্রাম বা নগর পরিক্রমা করা হয়।তারাপীঠও তার ব্যতিক্রম নয়।এখানে ভক্তরা দৌল উৎসবে দেবীর চরণে, শ্বাশানের পাদপদ্মে ও বামদেবের বিগ্রহে আবির দিয়ে কৃষ্ণরূপী কালীর আরাধনা করেন।প্রতি বছর এই উৎসব উপলক্ষ্যে বহু পর্যটকের সমাগম ঘটে।তাঁরা দেবী তারাকে রাধাকৃষ্ণের সঙ্গে অভেদ কল্পনা করে মন্দির ও শ্মশান চত্বর মাতিয়ে তোলেন।
advertisement
প্রসঙ্গত আনুমানিক বাংলার ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে তারাপীঠ মন্দিরে দোল উৎসবের সূচনা করেন সাধক চক্রবর্তী বাবা।তাঁর মৃত্যুর পরের বছর থেকে ভক্ত ও সেবাইতরা মহাশ্মশানে দোল উৎসবের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন ও ভান্ডারা দেন।সেই থেকে তারাপীঠ মন্দিরে দোল উৎসবের সূচনা হয়।পরবর্তী সময়ে মন্দির চত্বরে নির্মাণ হয় দোল মঞ্চ।প্রতি বছর দোল পূর্ণিমার দিন ভক্তদের দেওয়া নানা রঙের আবিরে ভরে ওঠে দোলমঞ্চ।সেই সঙ্গে দেবীর কপালে টিপ, চরণে আবির দিয়ে আশীর্বাদ লাভের আশায় ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।এবছর সেই ভিড় কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা মন্দির কমিটির।
এবারও শান্তিনিকেতনে ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব পালিত হবে। বহিরাগতরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না।এদিকে দোল ও পরের দু’দিন ছুটি।ফলে এতদিন যেসব পর্যটক শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব দেখে তারাপীঠে ভিড় জমাতেন, পরপর তিনদিন ছুটি থাকায় তাঁদের অনেকেই সরাসরি তারাপীঠে আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।ফলে ব্যাপক ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।দোলের দিন অনেকেই তারা মাকে আবিরের টিপ বা চরণে আবির দিয়ে প্রণাম করেন।পর্যটকদের অনেকে রাসায়নিক মিশ্রিত আবির ব্যবহার করেন।যার প্রভাব পড়ে মায়ের মূর্তিতে।তেমনইমায়ের সাজও নষ্ট হয়।তাই এবছর আবির নিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন না পর্যটকরা। গর্ভগৃহের বাইরে থাকা দেবীর চরণে শুধুমাত্র ভেষজ আবির দেওয়া যাবে।
Souvik Roy





