ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেই। বাংলাদেশের নির্বাচনে ধানের শিষ অর্থাৎ বিএনপি মাথা তুলবে, এমন পূর্বাভাস ছিলই। তবে এ বারের বাংলাদেশের নির্বাচনে এমন কিছু চরিত্র ছিলেন, সেই অর্থে যাঁরা অপরিচিত বা স্বল্প পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-যুবদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিল। তারা জোট বেঁধেছিল জামাত ইসলামী। ভোটের ফল বলছে, এনসিপি-র প্রাপ্ত আসন দুই অঙ্কের সংখ্যাও ছুঁতে পারেনি। হেরেছেন দলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েক জন নেতা। বিএনপি এবং তার শরিক দল মিলে পেয়েছে ২১২টি আসন, জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, স্বতন্ত্র এবং অন্যরা পেয়েছে ৭টি আসন। ৩০০টি আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি।
নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে জানা গিয়েছে, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চার জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সেখানকার একটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারকেও সরানো হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের খুলনায় ভোটকেন্দ্রে ধস্তাধস্তির সময়ে মৃত্যু হয় এক বিএনপি নেতার। নিহতের নাম মহিবুজ্জামান কচি (৬০)। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভোট দিতে গেলে, ভোটকেন্দ্রে জামাত এ ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বচসা এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময়েই জামাতের লোকেরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তাঁর মাথায় চোট লাগে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই বিএনপি নেতার। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামাত।
তবে, বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে, তা হল- বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে বসতে চলেছে? শেখ হাসিনা পরবর্তী জমানায় বিএনপি-ই কি ক্ষমতায় আসছে, নাকি সকলকে ভুল প্রমাণ করে মসনদে বসবে জামাত? সেদিকেই নজর গোটা বাংলাদেশের। নজর রাখছে ভারতও।
Bangladesh Election Results 2026 |বাংলাদেশ নির্বাচন রেজাল্ট ২০২৬ Live Updates in Bengali
বিজয়ী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে ‘উচ্ছ্বসিত’ মোদি। সমাজমাধ্যমে এমনটাই জানালেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তারেকের উদ্যোগের পাশে আছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই সমাজমাধ্যমে বিএনপি প্রধান তারেককে অভিনন্দন জানান মোদী। বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি।
২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ শুক্রবার এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। একটি আসনের ফলাফল আগেই স্থগিত করা হয়। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফলাফল ঘোষণার সমাপনী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন। বিএনপি একক দল হিসেবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পেয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছে জামাত ও এনসিপি। এরই ধারাবাহিকতায় সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে করা পোস্টে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে জামাত। পোস্টে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন জামাতের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় দলটির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো মনে হয়েছে জামাতের। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে দাবি করেছে জামাত।
বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি তার পোস্টে বলেন, “বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।” “আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি,” যোগ করেন তিনি।
গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির তিন নেতা। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর জয়ী হয়েছিলেন। এরপর এবারই প্রথম এই জেলার সব আসনে জয় পেল সরকার গঠনের অপেক্ষায় থাকা দলটি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলটির গুলশান কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ভীড় বাড়ছে। দলের চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানাতে কেউ কেউ এনেছেন ফুল। আজ শুক্রবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের তেমন তৎপরতা না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভীড় বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে আসছেন। জয় পাওয়ায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করছেন তারা। কেউ কেউ কার্যালয়ের সামনে ছবিও তুলছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারি ফলাফলে হেরেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ওই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট এক লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ, তিনি তাসনিম জারার চেয়ে ৬৬ হাজার ৫২৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। মোশাররফ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৪৪০টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৮৪৫টি ভোট। এই দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৪৬ হাজার ৫৯৫।১৪৫টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামা ওবায়েদ জয়ী হয়েছেন। শামা ওবায়েদ পেয়েছেন এক লাখ ২১ হাজার ৬৯৪টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের রিকশা প্রতীকের শাহ আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫টি ভোট। শামা ওবায়েদ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আকরাম আলীর চেয়ে ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের ভোটগণনা শেষে এই ফলাফল পাওয়া যায়।
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল মঈন খান জয়ী হয়েছেন। এই আসনের ৯২টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী মঈন খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৩৯টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯২০টি ভোট। এই দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৩৬ হাজার ৮১৯টি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামাত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩টি ভোট। প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল শিটে তার নাম মো. আবুল হাসনাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৮৫টি ভোট।
নির্বাচনে জয়ের জন্য বিএনপি ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট বার্তায় মোদি বলেন, এই বিজয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থনে ভারত থাকবে।
ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনের ১৪৭ কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটসহ বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
রংপুর-১ আসন: দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ রায়হান সিরাজী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট ধানের শীষ প্রতীকে মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট
বিএনপির জোটে প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়ে ঢাকা-১২ আসনে জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। এ আসনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি মোট ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়েছেন। সাইফুল আলমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল হক। তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী। তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট।
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটে বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন৷ নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।



