বর্তমানে স্কুল বন্ধ হওয়ার ঘটনা সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি স্কুলে ছাত্রসংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়ার ঘটনাও চলছে। সরকারি নিয়ম মেনে স্কুলগুলিকে টিকিয়ে রাখতে এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা শিক্ষাবিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বলা যেতে পারে, তারই ফল পেল হাওড়া ব্যাঁটরা পাবলিক লাইব্রেরি প্রাথমিক শিক্ষা নিকেতন।
আরও পড়ুনঃ ঐতিহাসিক জয়! রাজা কৃষ্ণনাথের নাম যুক্ত হল মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে, খুশির জোয়ার জেলাজুড়ে
advertisement
লেখাপড়ার পাশাপাশি স্কুলে-স্কুলে বিভিন্ন কারিকুলাম হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে সেই নিয়মবিধি মেনে চলার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহানুভূতি, ছাত্র-শিক্ষক আত্মিক যোগ চোখে পড়ে। চোখরাঙানি নয়, স্নেহের পরশে শিক্ষাদানের কৌশলই স্কুলে ছাত্র ভরে ওঠার অন্যতম কারণ।
অভিভাবকদের কথায়, ” এই স্কুল প্রায় বন্ধ হতে যাওয়ার মুখে ছিল। গত বছর স্কুলের নতুন প্রধান শিক্ষিকা যোগদান করার পর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্কুলের পরিবর্তন হয়। শিক্ষিকারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলে আসার অনুরোধ জানান। প্রথমে এই স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে ভরসা করতে পারিনি। তবে এখন বুঝতে পারছি ছেলেমেয়েরা, লেখাপড়া, আচার-আচরণে উন্নতি করছে। সব মিলিয়ে আমরা খুশি। সরকারি স্কুল যেন বেসরকারি স্কুলের মতো নিয়ম-শৃঙ্খলায় ভরপুর।”
এই প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অর্পিতা ঘোষ জানান, “মর্নিং গ্রিটিংস দিয়ে স্কুল শুরু হয়। এরপর সমবেত প্রার্থনা, বাণীপাঠ শেষে ক্লাস। স্কুলে নতুন উদ্যোগ, সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্মদিন পালন, যা দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। শনিবার পূর্ণদিবস স্কুল চলে, ওইদিন কম্পিউটার, অঙ্কন, ক্যারাটে, স্পোকেন ইংলিশ, দাবা, অরিগামি, ব্রতচারী হয়। স্কুলে লাইব্রেরি, তিথি ভোজনের আয়োজন রয়েছে। বিভিন্নভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লক্ষ্য একটাই, ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই সমস্ত কাজ সম্ভব হয়েছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ জানান, বহু সরকারি স্কুলে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সরকারিভাবে স্কুলগুলিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি করে সমৃদ্ধ করবে। সেই সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে, বহু স্কুলে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটছে। তার অন্যতম এই স্কুল। এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়েছে। তাঁদের প্রকৃত শিক্ষাদানের দিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে চলতি বছরে একজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।





