ফুটপাতে মহিলা চালাচ্ছেন ব্যবসা, কটুক্তি বদনাম তো ছিলই। সেসব তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যাবার শপথ নিয়েছিল সে। নিজের লক্ষ্য পূরণে, আসবে নানা বাধা-বিপত্তি সে সমস্ত কিছু অতিক্রম করে এগোতে পারলে আসবে সাফল্য, এটাই তাঁর মন্ত্র। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই জারি। এখন বহু মহিলার অনুপ্রেরণা চা বিক্রেতা পাপিয়া।
advertisement
মহিলা চা বিক্রেতার আগে, লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি স্কুলে কর্মজীবন শুরু। সেটা ছিল কর্ম জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। তারপর মডেলার হিসাবে কয়েক বছর কাজ। তারপর, এয়ার হোস্টেজের স্বপ্ন পূরণ করতে পড়াশোনা শুরু করে। কোর্স শেষ হতে চাকরির সুযোগও মেলে। কাতার এয়ার লাইন্সে চাকরির সুযোগ হাতে পায়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় লকডাউন পরিস্থিতি।
তারপর পরিবারের অভাব অনটন। সংসারে হাল ধরতে চা বিক্রির পথ বেছে নেন। নিজের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে, জাতীয় সড়কের ধারে ছোট্ট একটি চা এর কাউন্টার। ছোট্ট এই চায়ের দোকানে পাপিয়ার হাত ধরেই দুজন অভাবী পরিবারের ছেলে কাজের সুযোগও পেয়েছিল।
ছোট্ট দোকান হলেও যত্নে সাজানো। খুব সহজেই নজর আকৃষ্ট করে মানুষের। আরও বেশি আকৃষ্ট করে বিক্রেতার আন্তরিকতা। একজন কম বয়সী মহিলা চা বিক্রি করছেন ফুটপাতে। এমন দৃশ্য খুব কম নজরে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ সে দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। যত দিন গড়াতে থাকে ক্রেতাদের ঢল নামে।
মডেল ও এয়ার হোস্টেস চা বিক্রেতা পাপিয়া ঘোষাল এখন বেশ জনপ্রিয় গোটা এলাকায়। তাতেই নেট মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে নিজের স্বপ্ন পূরণের আশা আরও জোরদার হয়। কিন্তু সে সুদিন বেশিদিন টেকেনি। হঠাৎ একদিন সকালে দোকান বন্ধের বিজ্ঞপ্তি। তাঁর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ খাড়া করেন স্থানীয় মানুষ। তখন মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত অবস্থা। হাউ হাউ করে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে সে পুরোপুরি থেমে যায়নি। আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়েছে। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে ছুটে বেরিয়েছে শেষ কয়েক মাস।
মাস কয়েক পর আবারও চায়ের পাত্র হাতে জাতীয় সড়কের পাশে দেখা গেল পাপিয়া’কে। এবার আরও সুসজ্জিত তাঁর দোকান। এবার চায়ের সঙ্গে আরও কিছু খাবার যুক্ত হয়েছে। দোকানে বাড়ছে ক্রেতাদের ঢল। শুধুমাত্র ক্রেতারা নন, একজন মহিলার হার না মানা লড়াইয়ে দেখে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন। সংসাররের হাল ধরতে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে একজন মহিলার কঠোর পরিশ্রম দেখে অনেকেই স্যালুট জানাচ্ছেন।
মডেলার চা বিক্রেতা পাপিয়ার ঠিকানা এখন ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সরস্বতী ব্রীজ সংলগ্ন সার্ভিস রোডের পাশেই। এ প্রসঙ্গে পাপিয়া ঘোষাল জানান, আরও কাছ থেকে দেখলাম অভাব অনটন কী। একজন মহিলা হিসাবে আরও বেশি করে জানলাম সমাজকে। এক শ্রেণীর মানুষ যেমন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নিজেরাই এগিয়ে এসেছেন সহযোগিতা নিয়ে।
রাকেশ মাইতি





