ময়ূরেশ্বর থানার মল্লারপুরের ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু সিং। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি কেষ্টদা। বাবা প্রয়াত কালীপদ সিং ছিলেন ইতিহাসের শিক্ষক। তিনি সবসময় পকেটে নোটবুক রাখতেন। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ডায়েরি লিখতে শুরু করেন কেষ্টদা। বাবা কাছে তালিম নিয়ে ডায়েরির পাতায় লিখে রাখতেন রোজকার ঘটনা। থাকত গ্রামের পরিচিত মানুষের খবরও।
advertisement
এভাবেই ক্রমে মৃত্যু তার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ১৯৭৫ থেকে এখনও পর্যন্ত ধরে তিনি ডায়েরির পাতায় লিখে রেখেছেন স্থানীয় মানুষদের মৃত্যুর কারণ ও তার দিনক্ষণ। আজ ৬৬ বছর বয়সে তাঁর কাছে ডায়েরির পাতা তবু স্মৃতির নয়, তা গ্রামবাসীদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্যভাণ্ডারও বটে সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন মল্লারপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতে গোয়ার গ্রামের বাসিন্দা সাধন সিং। তিনি বলেন, ‘‘বছর কয়েক আগে বার্ধক্যজনিত কারণে বাবার মৃত্যু হয়। সেসময় মৃত্যুর সার্টিফিকেট বের করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন পর পঞ্চায়েতে গিয়ে ডেথ সার্টিফিকেট বের করতে গেলে মৃত্যুর দিনক্ষণ জানা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়। পরে কৃষ্ণেন্দুবাবুর স্মরণাপন্ন হয়ে মৃত্যুর দিনক্ষণ উদ্ধার করি।’’
একইভাবে কৃষ্ণেন্দুর ডায়েরির পাতা ঘেঁটে উপকৃত হন ময়ূরেশ্বর এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তার খুব কাছের একজনের সার্টিফিকেট বের করার জন্য মৃত্যুর দিনক্ষণ জানতে কৃষ্ণেন্দুবাবুর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর এই বিচিত্র শখ এইভাবে পাঁচজনের উপকারে লাগবে ভাবতেও পারেননি কোনওদিন, তবে গ্রামবাসীদের কাছে তাঁর এই শখ তাঁকে অপরিহার্য করে তুলেছে। লিখতে লিখতে আজ তাঁর ডায়েরির পাতায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর দিনক্ষণ ও কারণ লিপিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, ‘‘প্রথম দিকে দেখে শিখে লিখতে শুরু করেছিলাম। এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। শুধু মল্লারপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েত নয়, আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে কোথায় কার মৃত্যু হচ্ছে তা জানতে মাঝেমধ্যেই খাতা পেন নিয়ে বের হতে হয় আমাকে। মৃত্যুর কারণ কী তাও খতিয়ে দেখে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করি। তার এই কার্যকলাপের ফলে বর্তমানে সে বাস্তবের চিত্রগুপ্ত হিসেবেও পরিচিত।





