শুধু পৌষ পার্বণ বলে নয়, মাঝে মাঝেই গ্রামগঞ্জের একাধিক বাড়ি থেকে ভেসে আসত ‘ধূপধাপ’ ঢেঁকির শব্দ। তবে বর্তমানে ঢেঁকির জায়গা দখল করেছে আধুনিক যন্ত্রপাতি আর তাতেই তৈরি হচ্ছে সহজলভ্য চালের গুঁড়ো। আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকি আর তার বিশুদ্ধ স্বাদ।কিন্তু পুরোনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ও গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন।
advertisement
বর্ধমানে শুরু হয়েছে পঞ্চম জেলা সৃষ্টিশ্রী মেলা। যা চলবে আগামী ১২ জানুয়ারী পর্যন্ত। এই মেলায় পূর্ব বর্ধমান জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও নিজেদের হাতের তৈরি জিনিস নিয়ে এসেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। মোট ৯০টি স্টল রয়েছে মেলায়। আর এই মেলায় নজর কেড়েছে রায়না ২ নম্বর ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একটি স্টল। আধুনিক মেশিনের ভিড়ে সেখানে সগৌরবে জায়গা করে নিয়েছে সাবেকি ঢেঁকি। ক্রেতাদের চোখের সামনেই সেই ঢেঁকিতে চাল কুটে তৈরি করা হচ্ছে বিশুদ্ধ চালের গুঁড়ো। যা বিক্রি করা হচ্ছে মেলাতেই। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ক্রেতাদের আগ্রহ তেমনই চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন তারা কেমন করে তৈরি হচ্ছে এই চালের গুড়ো।
রুবি মন্ডল বলেন, ‘আমি একজন SHG গ্রুপের সদস্যা। আমরা বর্তমানে যে জিনিসগুলো খাচ্ছি সেগুলির মধ্যে ভেজাল থাকছে তাই খাঁটি জিনিস সকলের কাছে পৌঁছে দিতে ও পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারখানায় যে চালের গুড়ি হয় সেখানে স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া হয় না কিন্তু আমরা ঢেঁকিতে স্বাস্থ্যের দিন বিবেচনা করি এবং ভেজাল ছাড়া চালের গুঁড়ো তৈরি করি।’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আগেও আমরা ব্যবসা করতাম কিন্তু সেভাবে লাভ হত না। বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে ট্রেনিং নিয়ে ব্যবসা ভাল হচ্ছে। আমরা ঢেঁকির মাধ্যমেই চালের গুড়ো তৈরি করি।’
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
হারিয়ে যাওয়া ঢেঁকির শব্দ আজ স্বনির্ভরতার নতুন গান শোনাচ্ছে বর্ধমানের এই মেলা প্রাঙ্গণে। একদিকে ঐতিহ্যের সংরক্ষণ আর অন্যদিকে ভেজালমুক্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা দুই লক্ষ্যেই সফল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের এই অভিনব উদ্যোগ। আর নাসিমা খাতুনদের মতো হাজারো নারীর হাতের ছোঁয়ায় বেঁচে থাকুক গ্রামবাংলার হৃতগৌরব।





