পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নিমদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটসিউড়ি গ্রামে ঢালাই রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল মাত্র এক বছর আগেই। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই রাস্তা ভেঙে চৌচির হয়ে পড়েছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও উঠে গিয়েছে কংক্রিটের চাঙর। বাইক বা সাইকেল চালানোও রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
advertisement
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তার বেহাল অবস্থা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক এসে ভাঙা রাস্তা পরিদর্শন করেও গিয়েছেন। কিন্তু পরিদর্শনের পরেও আজ পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, তবে বাস্তবে মেলেনি কোনও সমাধান।
গ্রামবাসী রাজিয়া বিবি এই প্রসঙ্গে বলেন, এই রাস্তা ঠিক হলে আমাদের অনেক উপকার হবে। অনেকজন জলে পড়ে গিয়েছে যাতায়াত করতে গিয়ে। ছোট ছোট ছেলেরাও হয়ত কোনোদিন পড়ে মরে যাবে। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। রাস্তার পাশে ভেঙে পড়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটিও। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিদ্যুৎ দফতরের কোনও কর্মী আজ পর্যন্ত সেই খুঁটি মেরামত করতে আসেননি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। অন্ধকার নেমে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, প্রায় এক হাজার পরিবার প্রতিদিন এই ঢালাই রাস্তা ব্যবহার করে। স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, রোগী, গর্ভবতী মহিলা সকলেরই এই রাস্তার উপর নির্ভর করতে হয়। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায় নিত্যদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। গ্রামবাসী আলি হামুদ মণ্ডল এই বিষয়ে বলেন, ‘এটাই আমাদের প্রধান রাস্তা। অনেকেই দেখে গিয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই রাস্তা ঠিক হলে আমাদের অনেক ভাল হবে।’ গ্রামের বড় মসজিদের পাশ দিয়েই এই ভাঙা রাস্তা গিয়েছে। ফলে দিনে বহু মানুষকে এই পথ ব্যবহার করতেই হয়।
গ্রামবাসীদের কথায়, এই রাস্তা তাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু রাস্তার এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিনই তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হাটসিউড়ি গ্রামের মানুষ। তাদের একটাই দাবি, দ্রুত এই ঢালাই রাস্তা সংস্কার করা হোক এবং ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি মেরামত করা হোক। নইলে যে কোনও দিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।





