প্ল্যাটফর্মে প্রযুক্তির মেলবন্ধন:
এই অভিযানটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনগুলিতে বিশেষ প্রমোশনাল বুথ স্থাপন করে সেগুলির ভোলবদল করা হবে। প্রতিটি বুথে ব্র্যান্ডেড ক্যানোপি টেন্ট, হেল্প ডেস্ক এবং আসন ব্যবস্থা থাকবে যাতে যাত্রীদের অ্যাপ ডাউনলোড করতে এবং যেকোনো সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা যায়।
advertisement
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, পূর্ব রেল প্রধান জংশনগুলিতে প্রাণবন্ত ‘ফ্যাসিলিটেটিং জোন’ বা সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তুলছে। এই জোনগুলির উদ্দেশ্য হলো যাত্রীদের ডিজিটাল রূপান্তরের অভিজ্ঞতা অনলাইনে শেয়ার করতে উৎসাহিত করা, যার ফলে ‘রেলওয়ান’ গ্রহণ করার এই প্রক্রিয়াটি একটি জনমুখী আন্দোলনে পরিণত হয়।
রেল প্রশাসন নিবিড় প্রচারের জন্য বেশ কিছু “প্রধান স্টেশন” চিহ্নিত করেছে:
• শিয়ালদহ বিভাগ: শিয়ালদহ, দমদম জংশন, নৈহাটি জংশন এবং কাঁচরাপাড়া।
• হাওড়া বিভাগ: হাওড়া, ব্যান্ডেল জংশন, বর্ধমান জংশন এবং রামপুরহাট।
• আসানসোল বিভাগ: আসানসোল, দুর্গাপুর এবং জসিডি।
• মালদহ বিভাগ: মালদহ টাউন, ভাগলপুর, সাহেবগঞ্জ এবং জামালপুর।
একীভূত ডিজিটাল উদ্যোগ:
শুধুমাত্র সাধারণ যাত্রীদের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে, এই অভিযানটি একটি ৩৬০-ডিগ্রি বা সর্বাঙ্গীণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। বাণিজ্যিক কর্মীদের বিশেষভাবে “ডিজিটাল অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে নিযুক্ত করা হবে, যারা সাধারণ মানুষকে এই অ্যাপের বিভিন্ন ফিচার বা বৈশিষ্ট্যগুলি বুঝতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, পূর্ব রেল প্রশাসন জোর দিয়ে জানিয়েছে যে এটি কেবল ভ্রমণকারী সাধারণ মানুষের জন্য নয়। রেলকর্মীদেরও ‘রেলওয়ান’ অ্যাপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য একটি সমান্তরাল অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে রেলের কর্মীবাহিনীও তাদের প্রদত্ত পরিষেবার মতোই ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠেন। প্রচারের গতি বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে স্টেশন ঘোষণা (Announcements) করা হবে, যা যাত্রীদের হাতের মুঠোয় থাকা সহজ টিকিট বুকিং, রিয়েল-টাইম ট্রেন ট্র্যাকিং এবং অভিযোগ প্রতিকারের সুবিধাগুলি স্মরণ করিয়ে দেবে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য হল এই ডিজিটাল যাত্রায় কোনও যাত্রী বা কর্মচারী যেন পিছিয়ে না থাকেন। ‘রেলওয়ান’ কেবল একটি অ্যাপ নয়; এটি ভারতীয় রেলের ভবিষ্যৎ, আর আমরা সেই ভবিষ্যৎকে সরাসরি স্টেশনের দোরগোড়ায় নিয়ে আসছি।”
