প্রথম দফায় শুধুমাত্র আদমশুমারিই হবে৷ জাত সমীক্ষা হবে দ্বিতীয় ধাপে৷ প্রথম দফায় সরকার ৩৩টি প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছে৷ কী কী থাকছে সেই প্রশ্ন তালিকায়? আসুন দেখে নিই এক নজরে-
advertisement
বাড়ির নম্বর (পুর বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ), সেনসাস হাউস নম্বর, বাড়ির মেঝে, দেওয়াল, ছাদে কী কী সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, সেই তথ্য নেবেন গণনাকারীরা। বাড়ির ব্যবহার, তা কী অবস্থায় রয়েছে, তাও জানবেন তাঁরা। বাড়ির মোট সদস্য সংখ্যা, গৃহকর্তার নাম, লিঙ্গ, তিনি তফসিলি জাতি বা উপজাতি বা অন্য সম্প্রদায়ের কি না, বাড়ির ঘরের সংখ্যা, বাড়ির মালিকানা, বিবাহিত সদস্য সংখ্যা–সবই সংগ্রহ করা হবে।
রেজিস্ট্রার জেনারেল ও দেশের সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন, দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গই সেনসাস প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। বর্তমানে এখানে বিধানসভা নির্বাচনী প্রক্রিয়া আসন্ন থাকায় বিষয়টি আটকে বলে মনে করা হচ্ছে৷
তিনি বলেন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বেড়েছে বলে আমরা নিজে থেকে গণনা বা সেলফ এনুমারেশনে উৎসাহ দিচ্ছে। মোবাইল, ল্যাপটপে লোকজন নিজেরাই তথ্য জমা দিতে পারবেন।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দিল্লি, গোয়া, কর্ণাটক, লক্ষদ্বীপ, মিজোরাম, ওড়িশা এবং সিকিমে ১৬ই এপ্রিল থেকে ১৫ই মে পর্যন্ত গৃহতালিকা আদমশুমারি করা হবে এবং এর পাশাপাশি ১লা এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্ব-গণনা পর্ব চলবে।
মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, ছত্তিশগড় এবং হরিয়ানায় ১ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত গৃহতালিকা গণনা শুরু হবে এবং এর মধ্যে ১৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত স্ব-গণনা পর্ব চলবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে, জনসংখ্যা গণনা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্যায়ে জনসংখ্যাতত্ত্ব, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা, অভিবাসন, প্রজনন হার ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই প্রথমবার, এই কার্যক্রমে জাতিগত গণনাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার তারিখ পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে। একমাত্র লাদাখ, জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড ছাড়া সর্বত্র ধর্ম, জাতপাত সংক্রান্ত নথি-সহ বাড়ি বাড়ি পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা চলবে। ওই চার জায়গায় দুটি ধাপের কাজই সেরে ফেলতে হবে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।
২০২৭ সালের আদমশুমারি দুটি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকা তৈরি ও বাড়ি গণনা করা হবে, এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা গণনা করা হবে। প্রথম পর্যায়ের অধীনে, প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তাদের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১লা এপ্রিল থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাড়ি গণনার জন্য ৩০ দিনের একটি সময়কাল নির্ধারণ করবে। জনগণের স্বেচ্ছায় তাদের তথ্য জমা দেওয়ার বিকল্পও থাকবে, যা বাড়ির তালিকা তৈরির ১৫ দিন আগে থেকে শুরু হবে। আদমশুমারি একটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় এবং এটি ১৯৪৮ ও ১৯৯০ সালের আদমশুমারি আইনের বিধান অনুসারে পরিচালিত হয়। তবে, এটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হয়।
