পথেই জ্ঞান হারান রোগী সুব্রত মন্ডল। এমনকি তিনি মারা গিয়েছে ধরে নিয়েই কান্নাকাটির রোল পড়ে যায় রোগীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা রোগীর এই অবস্থা দেখে প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন বলা চলে। তখনই, সিসিইউ বিভাগের ডাঃ অনুপম হালদার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগী কে দ্রুত নিজেদের ওয়ার্ডে নিয়ে যায়।
advertisement
অন্যদিকে হাল ছাড়তে নারাজ সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায়। এরপর শুরু হয় শেষ পর্যায়ের লড়াই। রোগীর বুকে ক্রমাগত পাম্পিং করেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ প্রায় ৯৬ ঘন্টা পর ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয় ওই রোগীর। তবে এখন বেশ কয়েকদিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবে সাপে কাটা রোগী সুব্রত মন্ডল।
সাপে কাটা রোগীর প্রাণ ফিরে পাওয়ার এমন সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কুলতলি থানার পুলিশ আধিকারিক শুভময় দাস, ভিলেজ পুলিশ দুদালী মোল্লা, ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায়, সিসিইউ বিভাগের চিকিৎসক অনুপম হালদার, চিকিৎসক হাবিবুল্লা হালদার, জামতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ অয়ন্তিকা মন্ডল সহ অন্যান্যরা।
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায় জানান, কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে বলে ওই রোগী জানতে পারেনি। তাই বুঝতে অসুবিধা হয়েছিল রোগীর সহ তার পরিবারের। শেষ মুহূর্তে পুলিশের তৎপরতায় ও চিকিৎসকদের অনন্য ভূমিকায় ওই যুবক কে ৪০ টি এভিএস দেওয়ার ফলে বাঁচানো গিয়েছে।
সাপে কাটা রোগীর বাবা সনৎ মন্ডল ছেলের জীবন ফিরে পেয়ে বলেন, ডাক্তার নয় ওনারা ভগবান। মৃতপ্রায় ছেলে কে বাঁচিয়েছে। ওনাদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। ছেলের প্রাণ ফিরে পেয়ে স্বভাবতই খুশি পরিবারের সকলে।






