TRENDING:

চিকিৎসকদের চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পেলেন সাপে কামড়ানো যুবক

Last Updated:
impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘রাখে হরি তো মারে কে\' ঠিক শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকদের হাতে পড়তেই প্রাণ ফিরে পেল কালাচ সাপে কামড়ানো মৃত প্রায় যুবক সুব্রত মন্ডল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি থানার ঝিঙেখালি গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত মন্ডল। দোকানের কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরে রাতের খাওয়ার খেয়ে বিছানায় ঘুমোতে যান। গভীর রাতে হঠাৎই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন সুব্রত মন্ডল। কোন রকম ভাবে রাত কাটিয়ে, পরের দিন তিনি সোজা গ্রামেরই এক চিকিৎসকের কাছে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় জামতলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। সেখানে বিএমওএইচ ডাঃ অয়ন্তিকা মন্ডলের নেতৃত্বে তড়িঘড়ি ১০ টি এভিএস দিয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় সাপে কাটা রোগী সুব্রত মন্ডলকে। কুলতলি থানার ভিজেল পুলিশ দুদালী মোল্লা সহ রোগীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সাপে কাটা রোগীকে নিয়ে ক্যানিং হাসপাতালে আসেন।
advertisement

পথেই জ্ঞান হারান রোগী সুব্রত মন্ডল। এমনকি তিনি মারা গিয়েছে ধরে নিয়েই কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়  রোগীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা রোগীর এই অবস্থা দেখে প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন বলা চলে। তখনই, সিসিইউ বিভাগের ডাঃ অনুপম হালদার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগী কে দ্রুত নিজেদের ওয়ার্ডে নিয়ে যায়।

advertisement

অন্যদিকে হাল ছাড়তে নারাজ সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায়। এরপর শুরু হয় শেষ পর্যায়ের লড়াই। রোগীর বুকে ক্রমাগত পাম্পিং করেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ প্রায় ৯৬ ঘন্টা পর ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয় ওই রোগীর। তবে এখন বেশ কয়েকদিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবে সাপে কাটা রোগী সুব্রত মন্ডল।

সাপে কাটা রোগীর প্রাণ ফিরে পাওয়ার এমন সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কুলতলি থানার পুলিশ আধিকারিক শুভময় দাস, ভিলেজ পুলিশ দুদালী মোল্লা, ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায়, সিসিইউ বিভাগের চিকিৎসক অনুপম হালদার, চিকিৎসক হাবিবুল্লা হালদার, জামতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ অয়ন্তিকা মন্ডল সহ অন্যান্যরা।

advertisement

ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায় জানান, কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে বলে ওই রোগী জানতে পারেনি। তাই বুঝতে অসুবিধা হয়েছিল রোগীর সহ তার পরিবারের। শেষ মুহূর্তে পুলিশের তৎপরতায় ও  চিকিৎসকদের অনন্য ভূমিকায় ওই যুবক কে ৪০ টি এভিএস দেওয়ার ফলে বাঁচানো গিয়েছে।

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
মরণোত্তর দানে অমরত্বের বার্তা, মৃত্যুকে জয় করার মানবিক অঙ্গীকার
আরও দেখুন

সাপে কাটা রোগীর বাবা সনৎ মন্ডল ছেলের জীবন ফিরে পেয়ে বলেন, ডাক্তার নয় ওনারা ভগবান। মৃতপ্রায় ছেলে কে বাঁচিয়েছে। ওনাদের ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই। ছেলের প্রাণ ফিরে পেয়ে স্বভাবতই খুশি পরিবারের সকলে।

advertisement

বাংলা খবর/ খবর/Local News/
চিকিৎসকদের চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পেলেন সাপে কামড়ানো যুবক
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল