ক্যামেরা দেখলেই উল্টো দিকে দৌড় দিচ্ছেন আসানসোল, রাণীগঞ্জ, দুর্গাপুরে বসবাসকারী বিভিন্ন কাবুলিওয়ালারা। সামনে বসে শোনাচ্ছেন দুশ্চিন্তার কথা। দেশে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে কিভাবে দুশ্চিন্তার প্রহর কাটছে, সে কথাও বলছেন। তবে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে নারাজ। তাঁদের মনে ভয়, তালিবানিদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরিনাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। যদি তাঁদের ছবি বা ভিডিও কোনওভাবে তালিবান গোষ্টির হাতে চলে যায়, তাহলে পরিবার অথবা আত্মীয়দের তালিবানি অত্যাচারে অতিষ্ট হতে হবে।
advertisement
দীর্ঘদিন ধরে আসানসোলের আস্তিন বাজারে থাকেন বেশ কয়েকজন কাবুলিওয়ালা। এখন আর দেশে ফিরে যাওয়া হয় না তাঁদের। বছরের পর বছরে আসানসোল ভূমেই বসবাস তাদের। পরিবার, আত্মীয়রা আফগানিস্তানে থাকেন। সময়ে সময়ে যোগাযোগও করতেন তাঁদের সঙ্গে। কিন্তু এখন যোগাযোগ করে উঠতে পারছেন না। নিজেরা ভারতে শান্তিতে থাকলেও, দেশে পড়ে থাকা মানুষগুলোর জন্য মন কাঁদছে। বারবার চেয়েও যোগযোগ করার কোনও সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। আস্তিন বাজারের কাবুলিওয়ালারা হয়ত আর দেশে ফিরবেন না। কিন্তু নিজের জন্মভূমির এই করুণ অবস্থার ছবি সংবাদমাধ্যমে দেখে নিজেদের কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না। আবার ভয়ে মুখও খুলতে পারছেন না।
অন্যদিকে রাণীগঞ্জ স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বেশ কিছু কাবুলিওয়ালা। কিন্তু তারাও ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ করতে পাররেনি পরিবাররে সঙ্গে। আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার পর্ব শুরু করার পর থেকেই চিন্তা বাড়ছিল তাদের। অনেকেই দেশে ফিরে যাবেন ভেবেছিলেন। চেয়েছিলেন পরিবারকে সুরক্ষিত কোনও একটা জায়গায় রাখতে। দেশে থাকা আত্মীয়রাও নিজেদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তালিবান যোদ্ধারা যে এত দ্রুত রাজধানী দখল করে নেবে, তা বুঝতে পারেননি। দু সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সঙ্গে। তা সত্ত্বেও ‘অন রেকর্ড’ মুখ বন্ধই রেখেছেন তাঁরা। কারণ, ওই যে ভয়।
পানাগড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ছিল মধ্যবয়স্ক কাবুলিওয়ালার। এলাকার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ কয়েক মাস ধরে তার দেখা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, হয়ত তিনি বিপদের আঁচ করতে পেরে দেশে ফিরেছিলেন। কিন্তু ভয়ঙ্কর এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে তিনি হয়ত আর দেশের সীমানা টপকাতে পারেননি।
এছাড়াও দুর্গাপুর, রবাকর সহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছেন অনেক কাবুলিওয়ালা। কেউ পরিবার রেখে এসেছেন দেশে, কেউ আবার পরিবার নিয়ে এলেও নিজের মনটাকে পাকাপাকিভাবে এদেশে আনতে পারেননি। তাদের সকলের মুখেই দুশ্চিন্তা, আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। দেশ, দেশের মানুষ - সকলের কথা ভেবে আজ তাদের মনখারাপ। দুশ্চিন্তায় উড়েছে ঘুম। তবে দেশে থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে সুরক্ষিত ভারতে থেকেও, তালিবানি ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ তারা।
Nayan Ghosh






