১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরুদ্ধে সারা বাংলা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। যার আঁচ এসে পড়ে বুড়ুল গ্রামেও। ১৯২১ সালে ডিসেম্বর মাসে স্টিমারে করে বুড়ুলের নলদাঁড়ি ঘাটে নামেন অভিভক্ত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিপ্লবী দলের নায়ক। সূর্য সেনের প্রধান সহকারী, চট্টগ্রাম যুব বিপ্লবের নেতা। পাশাপাশি, দলের গোপন সংবিধান রচয়িতা ত্রয়োবিংশবর্ষীয় যৌবনদীপ্ত বলিষ্ঠ শিক্ষক অনুরুপচন্দ্র সেন। ১৯২২ সালের ২ রা জানুয়ারি বুড়ুল ইংরাজি উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিতের শিক্ষকতায় যোগদান করেন। প্রকাশ্য শিক্ষকতার আড়ালে প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র-যুব এবং এলাকার সাধারণ মানুষকে বিপ্লবী দলে সংগঠিত করা। দক্ষিণেশ্বর বোমা মামলায় ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৬ সালে বুড়ুল থেকে গ্রেপ্তার হন স্বাধীনতা আন্দোলনের এই নেতা। মাস্টারদা সূর্যসেন ও অনুরুপচন্দ্র সেন দুজনেই চট্টগ্রামের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। ছিলেন পরম বন্ধুও।
advertisement
ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার হুগলী নদীর দক্ষিণ-পূর্ব তীরবর্তী এলাকা ঘেঁষে নলদাঁড়ি ঘাট, যা বর্তমানে সরকারের অধীনে। আয়তনে ছোট হলেও, বিপ্লবী পদধূলিধন্য ব্রিটিশ আমলের এই নলদাঁড়ি ঘাট আর পাঁচটা নদী ঘাটের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। স্থানীয় মানুষের কাছে এই ঘাটের আলাদা আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। অন্যান্য ঘাট গুলির থেকে বুড়ুলের নলদাঁড়ি ঘাটকে আলাদা করার পিছনে রয়েছে এর ইতিহাস।
এই ঘাট আগে জমজমাট থাকলেও, বর্তমানে ছবিটা অনেকটাই আলাদা। একসময়ে স্টিমার চলাচল করলেও বর্তমানে ভগ্নপ্রায় দশায় দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক নলদাঁড়ি ঘাট। চারিদিক ঘন জঙ্গল আর লতাপাতায় ঘেরা বিপ্লবী শহিদ অনুরুপচন্দ্র সেনের স্মৃতিবিজরিত এই স্থান আজও পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অনন্য ছবি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।






