ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবের সময় বিদ্যাধরী নদীর বাঁধের উপর প্লাসিটক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন এই সুকুমার সানা। কেননা সুন্দরবনের বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকলে, ভেসে যাবে গ্রামের পর গ্রাম। আর সেই সময় যখন সুন্দরবনের নদী গুলি জলোচ্ছ্বাসে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করেছে তখনই পরিবেশ প্রেমি সুকুমার সানা ক্রাচের উপর ভর করে ছুটে গিয়েছেন প্লাস্টিক নিয়ে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ রক্ষা করতে। তার এহেন কাজে মুগ্ধ সুন্দরবনবাসীরা।
advertisement
২০০০ সাল থেকে সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে কাজের পথ চলা শুরু প্রতিবন্ধী সুকুমার সানার। গাছকে ভালোবেসে নিজেই একা একা বৃক্ষ রোপণের কাজ শুরু করেন সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালি দ্বীপে। আর তার এই কাজে মুগ্ধ হয়ে এগিয়ে এসেছেন ঝড়খালি দ্বীপের গ্রাম্য বধূরাও। কখনও বিদ্যাধরী নদীর চরে ম্যানগ্রোভ গাছের চারা রোপণ। আবার কখনও বিদ্যাধরী নদীর বাঁধে নারকেল গাছের চারা এবং তালের বীজ রোপণ। আর এই নারকেল গাছের চারা রোপণ করেই তিনি এখন হয়ে উঠেছেন কোকোনাট ম্যান। সুন্দরবনের সোঁদা মাটি আর নোনা জল উপযুক্ত পরিবেশ নারকেল গাছের,একটি যা অর্থকারী ফসল। এমনকি ভূমিক্ষয় ও বজ্রপাত রোধে উপযুক্ত এই গাছ। আর তাই সুন্দরবনে বজ্রপাত, ভূমিক্ষয় রোধে ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রতিবন্ধী সুকুমার সানা নারকেল গাছের চারা এবং তালের বীজ রোপণ করে চলেছেন।
পাশাপাশি তাকে বিশেষভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঝড়খালি সবুজ বাহিনী ও বজবজের প্রত্যাশা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। প্রতিবন্ধী কোকোনাট ম্যান সুকুমার সানা জানান, ২০০০ সালে একটা পা বাদ যাওয়ায় ভেঙে পড়ে ছিলাম। সব কিছু যেন অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। তারপর নিজের মনকে শক্ত করে এই বৃক্ষ রোপণের কাজ শুরু করি। সুন্দরবনকে ভূমিক্ষয় রোধে ও বজ্রপাত থেকে বাঁচতে নারকেল ও তাল গাছ সহ ম্যানগ্রোভ রোপনই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আমার।






