তখন বামফ্রন্ট সরকার সূর্যাস্তের মতো প্রায় অস্তাচলে।বামফ্রন্টের শেষলগ্নে তৎকালীন সুন্দরবন উন্নয়ণমন্ত্রী কান্তী গাঙ্গুলী সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই সেতুটি সংস্কার করেননি। পরিবর্তে পাশেই পিয়ালি নদীর উপর একটি নতুন সেতু তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয় সেতু তৈরীর জন্য। ২০১০ সালের সাত জানুয়ারী ধোষা সেতুর শিলান্যাস করেন তৎকালীন সুন্দরবন উন্নয়ণ মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলী। তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায় প্রায় ১১ মাসের মধ্যে। অন্যদিকে রাজ্যে মহাপতন ঘটে বামফ্রন্ট সরকারের। সেতু সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় ব্রীজটি চালু হয়নি আজও। এদিকে বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। আর অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় মা-মাটি-মানুষের তৃণমূল সরকারের।
advertisement
সেতু টি নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্য করেনি বর্তমান সরকার। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও প্রশাসন সজাগ না থাকায় সেতুর রাস্তা জটের কারণে থমকে রয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষজন ভেবেছিলেন তাঁরা খুব কম সময়ের মধ্যে ক্যানিং ও জয়নগর এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও রাস্তা জটের কারণে চালু না হওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল বেরা, চন্দনা মন্ডল, অলোক রায়, মধুমিতা সরদার’রা ক্ষোভের সাথে বলেন এই সেতু চালু না হওয়ায় আমাদের কে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যানিং থানার হাটপুকুরিয়া, দাঁড়িয়া, হেড়োভাঙ্গার মতো এই সমস্ত জায়গায় যেতে আমাদের কে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের উচিৎ সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে এই সেতুটি চালু করা।
অন্যদিকে, তিলপীর বাসিন্দা আকবর মোল্লা, গিয়াসউদ্দিন পিয়াদা সহ কয়েক জন গ্রামবাসী জানান, এই সেতু চালু হলে আমরা খুব কম সময়ে জয়নগর ও ক্যানিং থানা এলাকার মধ্যে যাতায়াত করতে পারবো। ধোষা চন্দনেশ্বর নবীনচাঁদ হাইস্কুলে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রী মোমিনা মোল্ল্যা, অমল সরদার, গগন মাহাতো, হৃষিকেশ নস্কররা জানায় পিয়ালি নদীর উপর ধোষা সেতু চালু না হওয়ার কারণে আমাদের স্কুলে যাতায়াত করতে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।নতুন সেতুর রাস্তাটি হয়ে গেলে সমস্যা থাকতো না। যদিও বর্তমানে স্কুল বন্ধ রয়েছে। তাই সেতুটি তাড়াতাড়ি চালু হলে আমাদের খুব সুবিধা হয়। এ ব্যাপারে ক্যানিং পশ্চিমের প্রাক্তন এবং বর্তমান বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মন্ডল বলেন “২০১২ সালে সুন্দরবন উন্নয়ণ পর্ষদের রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন ধোষা সেতুর যাতায়াতের জন্য ক্যানিং এক নম্বর ব্লকের ধোষা হাট থেকে যামিনী মোড় পর্যন্ত সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ তড়িঘড়ি করে দিয়েছিলাম ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। জমিজটে আটকে পড়ায় জয়নগর দিকের রাস্তা না হওয়ায় নতুন সেতুটি চালু করা যায়নি।’ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পরেশরাম দাস জানিয়েছেন ‘সাধারণ মানুষকে যাতে দুর্ভোগের শিকার না হতে হয় তার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধোষা সেতুর রাস্তা জটের সমস্যা সমাধানের জন্য জমির মালিকেদের সাথে কথাবার্তা চলছে। সেতুর সংযোগকারী রাস্তা জটের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য খুব দ্রুততার সাথে সেতু টি যাতে চালু করা যায়, তারজন্য উদ্যোগ নিয়েছি।’অন্যদিকে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত ধোষা সেতু সম্পর্কে বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদার জানিয়েছে, সেতুর য়াতায়াতের রাস্তার জন্য ইতিমধ্যে এক কোটি ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সেতুর সংযোগকারী রাস্তার কাজ সমাপ্ত করে সেতুটি চালুকরা হবে।’তবে এলাকার সাধারণ মানুষ চাতকের মতো তাকিয়ে, কবে তাদের দুর্দশা ঘুঁচিয়ে চালু হবে এই ধোষা সেতু।
রুদ্র নারায়ন রায়






