ভাঙড়ের দুটি ব্লকের ছ’ লক্ষাধিক বাসিন্দাদের উন্নত ডাক পরিষেবার জন্য একমাত্র ভরসা ভাঙড় সাব পোষ্ট অফিস। ভাঙড় কলেজের সামনে অবস্থিত এই ডাকঘর থেকে হাজার হাজার গ্রাহক স্পিড পোষ্ট সহ সেভিংস একাউন্ট, রেকারিং ডিপোজিট কিংবা টার্ম ডিপোজিটের পরিষেবা নেন। সম্প্রতি এই ডাক ঘরকেই আধার সেবা কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকেই আধার সংক্রান্ত যাবতীয় পরিষেবা পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি ওয়েব সাইটে। অথচ, বাস্তবের ছবিটা অন্যরকম। আধার কার্ড করাতে গিয়ে বারে বারে হোঁচট খাচ্ছেন আমজনতা।ছেলেগোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সায়ন্তি সাহা বলেন, ‘আমার ছ বছরের মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলাম নতুন আধার কার্ড করাব বলে। ডাকঘরের কর্মীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন ছ থেকে সাত বছরের বাচ্চাদের আধার কার্ড করানো হচ্ছে না এখানে, কারণ ওঁদের নাকি আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায়না।‘ নারায়ণপুরের বাসিন্দা রবিউল শেখ বলেন, ‘আধার কার্ডে নামের বানান ভুল আছে। সেটা ঠিক করার জন্য ডাকঘরে গিয়ে জানতে পারি আগামী ছ মাস কোন স্লট বুকিং হবে না। সব নাকি ফিলাপ হয়ে গেছে। ওরা কি কারসাজি করছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।‘
advertisement
অভিযোগ বিস্তর। সুরাহা কিছুই নেই। ভাঙড় ডাকঘর সূত্রে খবর, ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর থেকে এখানে আধার পরিষেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে। ওই ডাকঘরের মাল্টি টাস্কিং স্টাফ বা এমটিএস ইকবাল হোসেন খান আধারের কাজকর্ম দেখাশোনা করেন। সোম থেকে শুক্র অফিস চলাকালীন প্রতিদিন ছ থেকে সাত জন নাগরিক কে আধার পরিষেবা দেওয়া হয়। তারমধ্যে যেমন নতুন আধার কার্ড তৈরি করা হয় তেমন পুরাতন কার্ডও সংশোধন করাতে হয়। কোনদিন কাদের পরিষেবা দেওয়া হবে সেজন্য আগে থেকে কুপন দেয় ডকাঘর কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে যে কুপন দেওয়া হয়েছে তাতে ২১ জুলাই পর্যন্ত স্লট বুকিং হয়ে গেছে। অর্থাৎ নতুন করে কেউ আধার পরিষেবা নিতে চাইলে তাকে আগস্ট মাসে দেখা করার কথা বলা হচ্ছে। সেই সময় দেখা করলে যে নিশ্চিত ভাবে ডেট বা স্লট পাওয়া যাবে সে ব্যপারে কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এই বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ।
বাসিন্দাদের অভিযোগ ডাকঘর কর্তৃপক্ষ লুকিয়ে চুরিয়ে বেছে বেছে কেবল নিজেদের পরিচিতদের আধার পরিষেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি, বেশি কাজ করার ভয়ে মাত্র পাঁচ-ছ টি করে কার্ড সংশোধন করছেন দৈনিক।অভিযোগ অস্বীকার করে ভাঙড় সাব পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাস্টার ললিত মোহন সিং বলেন, ‘আমাদের লোকবল খুবই কম। প্রায়ই দিনই ইন্টারনেট থাকে না।তা সত্বেও আমরা সাধ্যের বাইরে গিয়ে গ্রাহকদের পরিষেবা প্রদান করছি।‘ কবে এই সমস্যার সুরাহা হয়, সেটাই এখন দেখার।






