TRENDING:

সাবধান! নকল পুলিশ সেজে প্রতারণার নতুন ছক

Last Updated:

পুলিশের ফেক প্রোফাইল বানিয়ে প্রতারণার নতুন ছক, চাওয়া হচ্ছে টাকা

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এবার প্রতারণার ফাঁদে খোদ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আশ্চর্য হলেও এটাই সত্যি। তখন ভাল করে ঘুম ভাঙেনি কান্দি থানার ওসি সুভাষ ঘোষের। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলেন তাঁর পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক যুবক ফোন করছেন। কাচু মাচু গলায় সেই যুবক বলছেন, ‘স্যার মনে কিছু করবেন না,টাকা জোগাড় করতে একটু সময় লাগবে। আমার গুগল পে একাউন্ট নেই, অন্যের নম্বর থেকে টাকা পাঠিয়ে দেব এক দুদিনের মধ্যে।‘ এক ঝটকায় ঘুম ভেঙে গেল বড়বাবুর। আরে কিসের টাকা? কবে টাকা চাইলাম তোমার কাছে? আমতা আমতা করে উল্টো দিকের যুবক বলেন, ‘কেন স্যার, গতকাল মাঝরাতে অনেকক্ষণ আমার সঙ্গে চ্যাট করলেন ম্যাসেঞ্জারে। বললেন আপনার খুব বিপদ, বাড়িতে অনেকে অসুস্থ কিছু টাকা লাগবে চিকিৎসার জন্য।‘ মূহুর্তের মধ্যেই সব কিছু বুঝে নিলেন দুঁদে অফিসার।তার ফেসবুক অ্যাকাউণ্ট হ্যাক হয়েছে কিংবা অন্য কেউ ফেক একাউন্ট বানিয়ে সেখান থেকে গোপনে চ্যাটিং করে টাকা চাইছে পরিচিতদের কাছ থেকে।
advertisement

শুধু ওই পুলিশ অফিসার নন। বারুইপুর পুলিশ জেলার কয়েকজন অফিসারের নামে ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। একই ঘটনা ঘটেছে বিষ্ণপুর থানার আইসি মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। মৈনাক বাবু সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সড়গড়। তিনি নিজে নিত্য নতুন ছবি আপলোড করতে ভালবাসেন। সেই দাপুটে অফিসারের ছবি কপি পেষ্ট করে ফেক অ্যাকাউন্ট বানিয়ে তাঁর পরিচিতদের মধ্যে টাকা চাওয়া হয়েছে। বিরুপ পরিস্থিতি এড়াতে মৈনাক  নিজে ফেসবুক ওয়ালে ফেক একাউন্টের কথা লিখে সবাইকে সাবধান করেন। এ নিয়ে তিনি ফেসবুক ও সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করেন, ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন। মৈনাক বাবু বলেন, ‘মাঝেমধ্যে সাধারণ মানুষ কিংবা সেলিব্রেটিদের  অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে শোনা যায়। এখন পুলিশ অফিসারদের নামে কোন একটি গ্যাং ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে প্রতারণা করছে। এর পিছনে কারা আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।‘

advertisement

একের পর এক পুলিশ আধিকারিকদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফেক হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়ছেন তাঁরা। কেউ বা কারা জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা চেয়ে তাঁদের ভাবমূর্তি খারাপ করছে। মালদার এসিপি সৌমানন্দ সরকার সহ ক্যানিং এর এক ইন্সপেক্টরের নামেও এমন ফেক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘এমনিতেই টাকা চাওয়া নিয়ে পুলিশের অনেক বদনাম আছে। কেউ ভক্তিতে আবার কেউ ভয়ে পুলিশের হাতে টাকা গুঁজে দেন। সেই ধারনা থেকেই বেছে বেছে পুলিশ অফিসারদের ফেক অ্যাকাউন্ট করে টাকা চাওয়া হচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলেই সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে কারা এর পিছনে আছে?’

advertisement

বারুইপুর সাইবার ক্রাইম এর এক আধিকারিক বলেন, যতগুলো ফেক আইডি করে টাকা চাওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ আইডি উত্তর প্রদেশের।ওখানকার কোন একটা টিম এটা করছে পরিকল্পিত ভাবে। বিনা ডকুমেণ্টস এর সিম নিয়ে এটা করছে।

এই ঘটনার পর অবশ্য বহু অফিসার প্রোফাইল পিকচার বা কভার পিকচার থেকে নিজের পরিচিত উর্দিধারীর ছবি সরিয়ে দিয়েছেন। সুভাষ ঘোষ যেমন নিজের ছবির পরিবর্তে জগন্নাথ দেবের ছবি লাগিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটে। প্রশ্ন হচ্ছে এর পরেও কি এ ধরনের প্রতারকরা চুপ থাকবে?  নাকি নতুন ফন্দি আঁটবে? যেখানে পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের সামনে রেখে প্রতারণার ছক কষা হচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কতটা নিরাপদ তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন!

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
মরণোত্তর দানে অমরত্বের বার্তা, মৃত্যুকে জয় করার মানবিক অঙ্গীকার
আরও দেখুন

রুদ্র নারায়ন রায়

বাংলা খবর/ খবর/Local News/
সাবধান! নকল পুলিশ সেজে প্রতারণার নতুন ছক
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল