ক্যানিং থানার অন্তর্গত তালদি খিরীশতলা সংলগ্ন ক্যানিং -বারুইপুর রোড। অন্যান্য দিনের মতোই এই ব্যস্ত রাস্তায় ছুটে চলছিল যানবাহন। কালিকাতলা এলাকার গৃহবধু শিখা প্রামাণিক। এদিন শ্বশুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন কলকাতার গড়িয়া এলাকায় বাপের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। ক্যানিং থেকে বারুইপুর গামী অটোতে চড়ে বসেন তিনি। এরপরই, ক্যানিংয়ের তালদি সংলগ্ন খিরীশতলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা মোটর ভ্যানে সজোরে ধাক্কা মারে অটো-টি। চলন্ত অটো থেকে ছিটকে রাস্তার উপরে পড়ে যান গৃহবধূ শিখা প্রামাণিক।
advertisement
ধরে নেওয়া যায় এই অবধি ঘটনা ঠিক ছিল। কিন্তু এর পরবর্তী ঘটনাই একজন মানুষের সমাজ জীবনে দায় বদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে! দুর্ঘটনার পর, রাস্তার ধারে ছিটকে পড়া ওই গৃহবধুকে উদ্ধার না করে অটোচালক অটো নিয়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই গৃহবধু চিৎকার ও কান্নাকাটি করতে থাকেন। এরপর কিছু সহৃদয় স্থানীয় মানুষেরা ওই গৃহবধু কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় আহত গৃহবধূর।
দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার থেকেও, গৃহবধু শিখা দেবীর বেশি আক্ষেপ “দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু তা বলে এই ভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্থ মানুষ কে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যাওয়া কি উচিৎ হয়েছে অটো চালকের। মানবিকতা বলে কি কিছুই নেই ” যদিও, এই দুর্ঘটনার পর অমানবিক ওই অটোচালকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে ক্যানিং ট্রাফিক পুলিশ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে অটো টোটো। কিছু সময়ের জন্য হলেও বিশ্বাস করে, একপ্রকার চালকের হাতে জীবন দিয়েই যাত্রীরা এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে থাকেন। দৈনন্দিন জীবনে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এহেন চালকরা। তারা যদি এতটাই অমানবিক হয়ে পড়েন, তবে ভবিষ্যতে জীবন-জীবিকার সংকট দেখা দিতে পারে। নিত্যযাত্রীদের দাবী, প্রশাসনের উচিত নথিপত্র পরীক্ষার পাশাপাশি একজন চালককে লাইসেন্স দেওয়ার আগে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে যাত্রীদের পাশে থেকে, কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব তার পাট দেওয়ার। একজন চালকের মানবিকতার দিকটিও বিচার্য বিষয় বলে মনে করেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।






