আজকের যুগে দাঁড়িয়ে এরকম ডাকঘর খুব একটা নেই বললেই চলে। বাঁশের মাটির দেওয়াল, খড়ের ছাউনি ঢাকা কাঁচা বাড়ি। সামনে কয়েকটা বাঁশের খুঁটি পুঁতে চালা মতো করা। আশেপাশে সবুজের শান্ত শীতল ছায়া। আর এই ডাকঘরের মধ্যে থেকেই কাজ চলছে চিঠি দেওয়া নেওয়ার। বিদ্যুতের বাতি আজও ছুঁতে পারেনি এই বাড়িটিকে। আজও স্পর্শ করেনি কংক্রিটের সেই ইট বালি সিমেন্ট। বিগত ৫০ বছর ধরে সুন্দরবনের গোসাবা লাক্সবাগান গ্রামে এই ডাকঘরটি রয়ে গিয়েছে ঠিক পুরনো দিনের মতোই।
advertisement
বিকেলের পর যখন সূয্যি নামে পাটে, লন্ঠনের হলদে আলোর কেরোসিন বাতিতেই তখন কাজ সারেন ডাকমাস্টার। পোস্ট অফিসের অধীনে থাকা এগুলি হল গ্রামীন শাখা, যাকে উপডাকঘরও বলা হয়। গোটা দুনিয়ায় নগরায়নের তরঙ্গ বইলেও এই ডাকঘরটি যেন সেই বহিঃবিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
ভাবতেও অবাক লাগে আর পাঁচটি সরকারি দপ্তরের মতো এটিও একটি সরকারি ডাক অফিস। ইটের পাঁজরে চাপা পড়া শহরের বুকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে পুরনো দিনের ঐতিহ্য বহন করা উপ-ডাকঘর গুলি। স্থানীয় মানুষের দাবী, এহেন পুরনো ডাকঘর গুলিকে যদি ঐতিহ্য বহন করে সংস্কার করা যায় তো পরবর্তী প্রজন্ম এর ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে পারবে। তেমনি এই ডাকঘরটিও আজ বাংলার অভুতপূর্ব নিদর্শন হয়ে এক পায়ে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকবে।






