প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ঝড়খালি কোষ্টাল থানা (Jharkhali Coastal Police Station) এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে রয়েছে প্রচুর গাছপালা। সেই গাছপালা থেকে আগাছা বেরিয়ে ঢেকে দিচ্ছে চলাচলের রাস্তা (Roads are blocked by trees)। রাস্তার মাঝেও রয়েছে প্রচুর খানাখন্দ। ফলে যান চলাচলের সমস্যার পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই সমস্ত গাছগাছালি ও রাস্তার খানাখন্দের (Roads full with potholes) জন্য প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে ওই এলাকায়।
advertisement
পুলিশের উর্দি পরে কর্তব্য পালনের পাশাপাশি এলাকায় যাতে কোন প্রকার দুর্ঘটনা না ঘটে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করলেন ঝড়খালি কোষ্টাল থানার আধিকারিক প্রদীপ রায় (Police Officer Pradip Roy)। হাতে দা, হাতুড়ি এবং সহ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ঝড়খালি থানার আধিকারিক। শুরু হয় রাস্তার উপর ঝুঁকে পড়া গাছের ডালপালা কেটে যাতায়াতের পথ পরিষ্কার করার কাজ (Police in Uniform clears road)। যাতে কোন যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে, তাই প্রায় চার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তার বিভিন্ন জায়গার খানাখন্দে ইট দিয়ে ভরাট করা হয়।
এই প্রসঙ্গে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষিকা তথা জেলা পরিষদ সদস্যা শঙ্করী মন্ডল বলেন, ‘পুলিশকে অনেকেই ভয় পান, এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। যেটা প্রকাশ্যে আসে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে পুলিশ কর্মীরা আমাদের কারোর বাবা, ভাই, দাদা। তাছাড়া পুলিশ কর্মীরা ২৪ ঘণ্টাই প্রায় ডিউটি করে থাকেন সাধারণ মানুষের জন্য (Police works for common man)। তারা তাদের পরিবার পরিজনদের কথা ভুলে সমাজের জন্য কাজ করেন। এই ঘটনাটা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যা এর আগে সমগ্র সুন্দরবন এলাকায় কখনো দেখা যায়নি'।
সুন্দরবনের বুকে রাজপথে নেমে পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ এই প্রথম (Social work of Police)। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষজন ঝড়খালি কোষ্টাল থানার পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। হঠাৎ কেন এমন উদ্যোগ এ প্রসঙ্গে ঝড়খালি কোষ্টাল থানার আধিকারিক জানান, ‘আইনের শাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে কোন প্রকার দুর্ভোগে না পড়ে তার জন্যই এই উদ্যোগ। মানুষের সমস্যা দূর করতে ধারাবাহিক ভাবে এই কাজ চলবে।’
রুদ্র নারায়ন রায়






