কিন্তু বাস্তব সমাজে যে ছাই এরও গুরুত্ব আছে, তার প্রমান দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বেশ কিছু পরিবার। জীবনযুদ্ধে তাদের সংসার চালাতে ভরসা এই ফেলে দেওয়া ছাই- ই। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাই সংগ্রহ করে তা রৌদ্রে শুকিয়ে, চালন দিয়ে চেলে মসৃণ ও মিহি করেন। এরপর সেই ছাই এর প্যাকেট বানিয়ে কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে। বিনিময়ে মিলছে টাকা। যা দিয়ে সংসারতো চলছেই, অনেকেই আবার মাসিক চার পাঁচ হাজার টাকা মুনাফাও করছেন।
advertisement
ভাঙড়ের ছেলেগোয়ালিয়া গ্রামের আমজাদ আলী, হক সাহেবরা বিশ চল্লিশ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন। নিজেরা কাজ করার পাশাপাশি অনেকেই আবার দু চার জন গৃহবধূকে এই কাজে নিয়োগ করিয়েছে। ফলে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি এই কাজে নিযুক্ত অন্যান্য পরিবার গুলিরও আর্থিক সংস্থান এর পথ দেখাচ্ছে এই ছাই।
সময় করে পিকাপ ভ্যান নিয়ে এলাকায় বেড়িয়ে পড়েন আমজাদ আলী। ভাঙড়ের মাঝেরআইট, সাতুলি, কচুয়া, লাঙলবেকী, নাটাপুকুর, পোলেরহাট, মঙ্গলপুর, জয়নগর সহ এলাকার নানান গ্রাম থেকে ছাই সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসেন। তারপর রৌদ্রে শুকিয়ে ম্যাশিনের সাহায্যে মিহি করা হয় সেই ছাই। এরপর, প্যাকেট করে, বস্তায় ভরে গাড়িভাড়া করে তা কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বস্তা পিছু একশো থেকে দুশো টাকা লাভ থাকে বলে জানান আমজাদ আলী। তিনি আরো বলেন, আমি এলাকায় চল্লিশ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। আমার দেখা দেখি এলাকায় অন্যান্যরাও এই কাজে এগিয়ে এসেছে। ভাঙ্গড়ের বেশকিছু পরিবার এখন এই কাজ করে আর্থিক উপার্জন করছেন। কোম্পানি আমাকে ম্যাশিন দিয়েছে। সেই ম্যাশিনেই আমি প্রত্যেকদিন ছাই মিহি করি। এই কাজ করেই আমার সংসার চলছে।
এইকাজে নিযুক্ত হকসাহেব বলেন, আমি বিশ বছর ধরে এই কাজে নিযুক্ত। সংসার চলে যায়, মাসের শেষে কিছু থাকেও। আমার এখানে আর দু তিন জন কাজ করে। হকসাহেবের কাছে কাজ নিযুক্ত রসিদা বিবি, রুপা বিবিরা বলেন এখান থেকে দৈনিক একশো দেড়শো টাকা রোজগার করি। যা সংসারের কাজে আসে। পাশাপাশি, সংসারের সব কাজ করেও আমরা এই কাজ করতে পারি। ফলে সমস্যাও হয় না কোন।
কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থাকে এই ছাই সরবরাহ করা হয়। বাসন মাজা, মাছ কাটা সহ নানান কাজে ব্যবহারের জন্য এই ছাই বিক্রি হয়ে থাকে।
ফলে, এই কাজের মধ্যে দিয়ে গুরুত্বহীন 'ছাই' আজ অন্নসংস্থান যোগাচ্ছে বেশকিছু পরিবারের মুখে।






