TRENDING:

এবার ভাঙড়েও চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফলের

Last Updated:

করোনা কালে জীবিকা হারিয়েছেন বহু মানুষ। পেশাও বলেছেন অনেকে। পরবর্তী সময়ে নতুন কিছু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বহু মানুষ। ধারাবাহিক ভাবে আয় পেতে এবং কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতে এবার ভাঙড়েও চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফলl

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: করোনা কালে জীবিকা হারিয়েছেন বহু মানুষ। পেশাও বলেছেন অনেকে। পরবর্তী সময়ে নতুন কিছু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বহু মানুষ। ধারাবাহিক ভাবে আয় পেতে এবং কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতে এবার ভাঙড়েও চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। সরকারি সহায়তায় মেলায় বহু কৃষক এখন অন্য চাষ ছেড়ে এই চাষে মন দিয়েছেন। চিন, মালেশিয়া, জাভা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ছেড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সব্জি ও ফলের ভান্ডার বলে পরিচিত ভাঙড়ে এই চাষ হওয়ায় গৌরব বেড়েছে ভাঙড়ের। যদিও উত্তর ২৪ পরগণা, নদীয়াতে অনেক আগেই এই চাষের প্রসার ঘটেছে। ভাঙড় দু-নম্বর ব্লকের বিডিও কার্তিক চন্দ্র রায় বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিড সাব স্টেশনের সামনে গাজীপুরের মাঠে এই চাষ হচ্ছে, এই লাভদায়ক চাষে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে’।
advertisement

অন্যান্য দেশের লোকেরা একে ফায়ার ড্রাগন ফ্রুট বা সুইট ড্রাগন নামে ডেকে করে থাকেন। একসময় আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে এই ফলের রমরমা বিকিকিনি থাকলেও এখন এটি পাওয়া যায় এশিয়া মহাদেশের তাইওয়ান, ফিলিপাইন্স, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডেও। বিশেষ্ণজদের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলের মধ্যে ৫৫ গ্রাম অংশ খাওয়ার যোগ্য। পরিমিত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি থাকে। এই ফলের ক্যালরি খুব কম। তাই ডায়বেটিস ও হৃদরোগীরা অনায়াসেই এটা খেতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে ও লিভারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ড্রাগন ফল।

advertisement

পোলেরহাট ২ অঞ্চেলর কৃষক শাইম আল আজাদ অন্যান্য  চাষের পাশাপাশি এখন মন দিয়েছেন ড্রাগন ফলের চাষে। গাজীপুরের মাঠে ফণিমনসা জাতীয় ড্রাগন গাছ বসিয়েছেন সারি দিয়ে। ফুল ফুটেছে, ফল ধরেছে গাছে। যদিও এর জন্য টানা দু বছর লাগাতার কসরত করতে হয়েছে শাইম ও তার সহকর্মীদের।

এত কিছু থাকতে হঠাৎ গতানুগতিক চাষের বাইরে ড্রাগন চাষ কে কেন বেছে নিলেন? শাইম বলেন, ‘এই ফল চাষ করা অত্যন্ত লাভদায়ক। একবার গাছ বসালে টানা ২০- ২৫ বছর একটানা ফল দেয়। ফলের দামও অগাধ। এখন এক কেজি ফল ৪০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই ব্যবসায়িক লাভ দেখেই এই ফলের চাষ শুরু করেছি।‘ কৃষি বিশেষজ্ঞদের দাবি, ‘এই ফল ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস এর মত রোগ প্রতিরোধ করে। তাই পথ্য হিসাবে এর গুনাগুন অসীম।‘

advertisement

মূলত বালি মাটিতে এই গাছের বৃদ্ধি ভাল হয়। তাই বালি জমিতে গাছের চারা রোপন করা হয়। চারটি গাছের মাঝখানে একটি করে লোহার খুঁটি বসাতে হয়। আর খুঁটির মাথায় জি আই পাইপের লোহার রিং বা সাইকেলের চাকার রিং লাগানো হয়। গাছগুলি মাটি থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় লোহার খুঁটি দিয়ে উপরে উঠে রিং এর চারপাশে ফোয়ারার মত ঝুলতে থাকে। সেখানেই ফুল ও ফল হয়। গাছ বসানোর ১৮ মাসের মধ্যে ফুল ধরে। সেই ফুল থেকে একমাসের মধ্যে ছোট ছোট ফল হয়। সাদা, লাল ও হলুদ তিন প্রজাতির ফুল ও ফল হয়। তবে লাল ফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। লাল ফল গুলি নির্দিষ্ট সময় পর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের হয়। গাছ থেকে ফল পাড়ার দশ- বারোদিন পরও ফল গুলি তাজা থাকে, শুকায় না।

advertisement

সবচেয়ে মজার ব্যপার হল, প্রতি পিলার (৪টি গাছ) পিছু ৬০০ টাকার আশেপাশে খরচ হলেও গাছগুলি থেকে আয় হয় কয়েক হাজার টাকা। আর এই বাগানে চাইলে ড্রাগন ফল চাষের পাশাপাশি পিয়াজ, রসুন, ফুল কপি, বাঁধা কপি ও চাষ করতে পারেন। জমিতে সরষের খোল, সুপার ফসপেট, নাইটোজেন জাতীয় সার প্রয়োগ করতে হয়। প্রতিটি গাছ থেকে ১৮ মাস পর থেকে ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। তিন বছর পর গাছ গুলি গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল দিতে পারে। আর ৫ বছর পর ফল ধারন ক্ষমতা বেড়ে হয় ৪০ থেকে ৫০ কেজি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে লাভের অঙ্ক কতটা।

advertisement

ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আরাবুল ইসলাম  বলেন, ‘ভাঙড়ের দক্ষ কৃষক আর উর্বর মাটির সহাবস্থানের জন্য এখানাকার চাষ বরাবরই অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে আমরা সমিতির পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা করছি।

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
মরণোত্তর দানে অমরত্বের বার্তা, মৃত্যুকে জয় করার মানবিক অঙ্গীকার
আরও দেখুন

রুদ্র নারায়ন রায়

বাংলা খবর/ খবর/Local News/
এবার ভাঙড়েও চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফলের
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল