অন্যান্য দেশের লোকেরা একে ফায়ার ড্রাগন ফ্রুট বা সুইট ড্রাগন নামে ডেকে করে থাকেন। একসময় আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে এই ফলের রমরমা বিকিকিনি থাকলেও এখন এটি পাওয়া যায় এশিয়া মহাদেশের তাইওয়ান, ফিলিপাইন্স, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডেও। বিশেষ্ণজদের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলের মধ্যে ৫৫ গ্রাম অংশ খাওয়ার যোগ্য। পরিমিত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি থাকে। এই ফলের ক্যালরি খুব কম। তাই ডায়বেটিস ও হৃদরোগীরা অনায়াসেই এটা খেতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে ও লিভারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ড্রাগন ফল।
advertisement
পোলেরহাট ২ অঞ্চেলর কৃষক শাইম আল আজাদ অন্যান্য চাষের পাশাপাশি এখন মন দিয়েছেন ড্রাগন ফলের চাষে। গাজীপুরের মাঠে ফণিমনসা জাতীয় ড্রাগন গাছ বসিয়েছেন সারি দিয়ে। ফুল ফুটেছে, ফল ধরেছে গাছে। যদিও এর জন্য টানা দু বছর লাগাতার কসরত করতে হয়েছে শাইম ও তার সহকর্মীদের।
এত কিছু থাকতে হঠাৎ গতানুগতিক চাষের বাইরে ড্রাগন চাষ কে কেন বেছে নিলেন? শাইম বলেন, ‘এই ফল চাষ করা অত্যন্ত লাভদায়ক। একবার গাছ বসালে টানা ২০- ২৫ বছর একটানা ফল দেয়। ফলের দামও অগাধ। এখন এক কেজি ফল ৪০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই ব্যবসায়িক লাভ দেখেই এই ফলের চাষ শুরু করেছি।‘ কৃষি বিশেষজ্ঞদের দাবি, ‘এই ফল ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস এর মত রোগ প্রতিরোধ করে। তাই পথ্য হিসাবে এর গুনাগুন অসীম।‘
মূলত বালি মাটিতে এই গাছের বৃদ্ধি ভাল হয়। তাই বালি জমিতে গাছের চারা রোপন করা হয়। চারটি গাছের মাঝখানে একটি করে লোহার খুঁটি বসাতে হয়। আর খুঁটির মাথায় জি আই পাইপের লোহার রিং বা সাইকেলের চাকার রিং লাগানো হয়। গাছগুলি মাটি থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় লোহার খুঁটি দিয়ে উপরে উঠে রিং এর চারপাশে ফোয়ারার মত ঝুলতে থাকে। সেখানেই ফুল ও ফল হয়। গাছ বসানোর ১৮ মাসের মধ্যে ফুল ধরে। সেই ফুল থেকে একমাসের মধ্যে ছোট ছোট ফল হয়। সাদা, লাল ও হলুদ তিন প্রজাতির ফুল ও ফল হয়। তবে লাল ফলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। লাল ফল গুলি নির্দিষ্ট সময় পর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের হয়। গাছ থেকে ফল পাড়ার দশ- বারোদিন পরও ফল গুলি তাজা থাকে, শুকায় না।
সবচেয়ে মজার ব্যপার হল, প্রতি পিলার (৪টি গাছ) পিছু ৬০০ টাকার আশেপাশে খরচ হলেও গাছগুলি থেকে আয় হয় কয়েক হাজার টাকা। আর এই বাগানে চাইলে ড্রাগন ফল চাষের পাশাপাশি পিয়াজ, রসুন, ফুল কপি, বাঁধা কপি ও চাষ করতে পারেন। জমিতে সরষের খোল, সুপার ফসপেট, নাইটোজেন জাতীয় সার প্রয়োগ করতে হয়। প্রতিটি গাছ থেকে ১৮ মাস পর থেকে ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। তিন বছর পর গাছ গুলি গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল দিতে পারে। আর ৫ বছর পর ফল ধারন ক্ষমতা বেড়ে হয় ৪০ থেকে ৫০ কেজি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে লাভের অঙ্ক কতটা।
ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আরাবুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙড়ের দক্ষ কৃষক আর উর্বর মাটির সহাবস্থানের জন্য এখানাকার চাষ বরাবরই অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে আমরা সমিতির পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা করছি।
রুদ্র নারায়ন রায়






