তবে বর্তমান পরিস্থিতির ছবিটা কিছুটা হলেও বদলেছে। সুন্দরবনের (sundarban) লোনা জলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব জমিতে ড্রাগন ফল (Dragon Fruit) গাছ চাষ করে , সাফল্য পেতে শুরু করেছেন বেশকিছু চাষী। তাই কম খরচে দীর্ঘমেয়াদী এই ড্রাগন ফলের চাষ কে বিকল্প চাষ হিসেবে বেছে নেওয়ার বার্তা, সুন্দরবনের চাষীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে মদারাট পপুলার একাডেমির জীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক চিত্তরঞ্জন নস্কর।
advertisement
ড্রাগন ফলের অনেক গুণগতমান আছে। এই ফল মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষত এই ফল ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে ডেঙ্গি হলে ড্রাগন ফল খেলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। গ্যাস অম্বল এর ক্ষেত্রেও ভালো কাজ করে এই ফল। গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই ফল খুবই উপকারী। ফলে বাংলা সহ দেশ বিদেশের বাজারে, এই ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ড্রাগন ফল (Dragon Fruit) গাছ মরুভূমির ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ হলেও যে কোনো মাটি বা পরিবেশে ড্রাগন চাষ হতে পারে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সুন্দরবনের চাষের জমি নোনা জলে পরিপূর্ণ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই জমিতেও এই গাছ লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, চাহিদা অনুযায়ী এই ফল চাষ বেশ লাভজনক। এই গাছে পোকার আক্রমণ বা সাধারণ রোগ লাগার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাও কম।
বিঘা প্রতি প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে এই চাষে। তবে একবার গাছ লাগালে প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত একই ভাবে ফল পাওয়া যাবে। যত্ন নিলে ৪০ বছর পর্যন্ত এই গাছ বেঁচে থাকে এবং ফল পাওয়া যায়।
ফলে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা এখন বিকল্প চাষ হিসেবে এই দীর্ঘমেয়াদী ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
রুদ্র নারায়ন রায়






