ইয়াসের পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুন্দরবন-সহ রাজ্যের বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে ১৫ কোটি ম্যানগ্রোভ রোপণের কথা ঘোষণা করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে পাঁচ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানো হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। ইতিমধ্যে জেলায় ম্যানগ্রোভ রোপণের কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। গত বছর আমফানের পরেও সরকারের তরফে ম্যানগ্রোভ রোপণ করা হয়। সুন্দরবন জুড়ে সে বার পাঁচ কোটিরও বেশি ম্যানগ্রোভ বসানো হয়েছিল বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রশাসনের বসানো সেই সব ম্যানগ্রোভ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কোন কোন জায়গায় ভেড়ি, বেআইনি নির্মাণের জন্য ম্যানগ্রোভ কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
advertisement
ফের নতুন করে ম্যানগ্রোভ রোপন করা হলেও, তার ভবিষ্যত কী হবে উঠছে সেই প্রশ্নও! সুন্দরবনের প্রতিটি ব্লকের সমস্ত পঞ্চায়েত কে ম্যানগ্রোভ রোপণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি পঞ্চায়েত বাদে, বাকি পঞ্চায়েতগুলি ম্যানগ্রোভ রোপণে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। ম্যানগ্রোভ রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন গুরুত্ব দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগণা বনবিভাগ সূত্রের খবর, এলাকায় ২০০০ হেক্টর জমিতে গত বছর ম্যানগ্রোভ লাগানো হয়। সম্প্রতি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি জায়গায় রোপণ করা ম্যানগ্রোভের বৃদ্ধি ভালই হয়েছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় গাছগুলির আরও যত্নের প্রয়োজন।
সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় ম্যানগ্রোভ রোপন করা হয়েছিল ৫০০ হেক্টর জমিতে। সেই গাছের অধিকাংশই তেমন বাড়েনি। বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় ম্যানগ্রোভ রোপণের জন্য জমি নির্বাচন সঠিক হয়নি। সেই কারণেই সেখানে ম্যানগ্রোভের বৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে।
সুন্দরবনে নিজের হাতে ম্যানগ্রোভ বসানোর কাজে হাত লাগিয়েছিলেন জেলাশাসক পি উলগানাথন ও গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র। এ ব্যাপারে গোসাবার বিডিও সৌরভ মিত্র বলেন,গত বছর আমরা গোসাবা ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভ রোপণ করেছিলাম। দু’তিনটি পঞ্চায়েত খুব ভাল কাজ করেছিল। এবারে সমস্ত পঞ্চায়েতে ম্যানগ্রোভের নার্সারি তৈরি করে, নদীর চরে সেই ম্যানগ্রোভ রোপণ করা হচ্ছে। ম্যানগ্রোভের রক্ষণা বেক্ষণের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বন দফতর ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে ম্যানগ্রোভ পরিচর্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার তরফেও সম্প্রতি এলাকায় ম্যানগ্রোভ রোপণ শুরু করা হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, এলাকার ১১টি থানার তরফে এলাকায় তিন থেকে পাঁচ হাজার করে ম্যানগ্রোভ রোপণ করা হবে। বন দফতর থেকে আনা ওই চারা নদী বা সমুদ্রের চরে বসাচ্ছেন পুলিশ, সিভিক ভলেন্টিয়ার্স সহ জন প্রতিনিধিরা। সহযোগিতার হাতবাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
কিন্তু ম্যানগ্রোভ রক্ষণা বেক্ষণের কী হবে? প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, ম্যানোগ্রোভ সুরক্ষার জন্য গাছগুলিকে কোথাও কোথাও জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। এলাকার পঞ্চায়েত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর রাখার জন্যও বলা হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন,নদী ও সমুদ্র লাগোয়া থানা গুলিতে ৪০ হাজার চারা বসানো হচ্ছে। প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতিকে বাঁচানো এবং ম্যানগ্রোভ বসানোর বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ম্যানগ্রোভ যাতে নষ্ট না হয় বা কেউ বেআইনি ভাবে না কাটে, তাঁর জন্য নজরদারি চালানো হবে।






