চলতি বছরে এই পুর এলাকায় কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ১৩৪ জন। যার জেরে আংশিক লকডাউনের পাশাপাশি দোকান, বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সির্দ্ধান্ত নিল পুরসভা। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হয়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩৫ টি ওয়ার্ডে ওষুধ ও দুধের দোকান ছাড়া আর কোন দোকান খোলা থাকবে না। প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে আজ থেকে বুধবার এই দোকান,বাজার বন্ধ থাকবে। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার প্রশাসক পল্লব দাস বলেন, ‘আমাদের পুরসভার সাত আটটি ওয়ার্ড কলকাতা লাগোয়া। ট্রেন বাস বন্ধ থাকলেও বহু মানুষ সাইকেলে করে কলকাতায় যাচ্ছেন এবং বাজার হাটে ভিড় করছেন।সেখান থেকেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দ্রুত। তাই আমরা আপাতত তিন দিনের জন্য দোকান বাজার বন্ধ করছি।পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সামনের সপ্তাহে আবার নতুন করে সির্দ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
advertisement
পুরসভা সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগেও এখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দেড় হাজারের মত। সেই সংখ্যা কমে এখন একশোর নিচে নামলেও শূন্য করা যায়নি।এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই জেলাশাসক পি উলগানাথনের নির্দেশে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন প্রশাসনের কর্তারা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনারপুরে বৈঠক করেন পুর প্রশাসক পল্লব দাস, বারুইপুরের মহকুমা শাসক সুমন পোদ্দার, এলাকার বিধায়ক এবং পুলিশের পদস্থ কর্তারা। সেই বৈঠকে ঠিক হয় আপাতত টানা তিনদিন দোকান বন্ধ রাখা হবে। কারণ দোকান ও বাজারে ভিড় থাকায় সেখান থেকে সংক্রমন দ্রুত ছড়ায়। পুর এলাকার ১,২,৩,২১,২৫ ও ২৬নম্বর ওয়ার্ডের মোট ১১ টি জায়গায় কনটেইনমেন্ট জোন করা হয়েছে।
প্রশাসনের উদ্যোগে এরপর রাজপুর, সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর, গড়িয়া,কালী বাজার, বোড়াল সহ বিভিন্ন বাজার কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সোমবার থেকে তিন দিন রাজপুর সোনারপুর এলাকায় সমস্ত দোকানপাট ও বাজার বন্ধ থাকবে ৷ শুধুমাত্র ঔষধ ও দুধের দোকান খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৷ পুরসভা সূত্রে খবর বর্তমানে এই পুর এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের বেশী কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন নতুন করে ৷ এই সংখ্যাতত্বেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসনিক কর্তাদের, তাই এমন ব্যবস্থা মন্তব্য বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের।
অন্যদিকে, পুরসভা এলাকায় সংক্রমন কমাতে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বারুইপুরের মহকুমা শাসক সুমন পোদ্দার। মহকুমা শাসক আরও বলেন, ‘এখানকার বেশিরভাগ মানুষ ট্রেনে করে কলকাতায় যাতায়াত করেন। তাই আমরা খুব শীঘ্র ভ্যাকসিন অন হুইলের মাধ্যমে রেল যাত্রীদের টিকা দেব। বিকাল বেলা ষ্টেশনে গাড়ি থাকবে। যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে সেখানে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।‘
রুদ্র নারায়ন রায়






