বাসন্তী রাজ্য সড়কের পাশে বৈরামপুর গ্রাম। সেখানে রাস্তার পাশে মজুত করে রাখা হয়েছে চাঁই চাঁই চামড়ার উচ্ছিষ্ট। যা বানতলা চর্মনগরী থেকে নিয়ে এসে বৈআইনি ভাবে জ্বালিয়ে সার তৈরি করা হয়। ইদানিং প্রশাসনের কড়া কড়িতে তা জ্বালাতে পারছেনা চামড়া ব্যাবসায়িরা। সেই মজুত করে রাখা চামড়া, খোলা আকাশের নিচে থাকায় বৃষ্টির জলে তার রাসায়নিক চলে যাচ্ছে চাষের খেতে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ধানি জমি। পার্শ্ববর্তী গ্রাম বাগবাড়ির প্রায় কয়েকশো পরিবারের এক মাত্র পেশা চাষাবাদ।তারা জমিতে লাঙল দিয়ে ধানের চারা রোপন করেছিলেন। জ্বালানির জন্য রাখা চামড়ায় বৃষ্টির জল পড়ায় সেই চামড়া ভেজা জল জমিতে এসে পড়েছে। চাষের জমির জল এখন লালচে রঙের। পচে যাচ্ছে রোপন করা ধান। এশুধু বাগবাড়ি এলাকার নয়। একই চিত্র এলাকার গাজিপুর, বৈরমপুর গ্রামের কয়েক হাজার জমিতেও। এই এলাকার বেশিরভাগই নীচু জমি। অপরদিকে মরশুমি ধানের চাষের উপর নির্ভর করে সংসার চলে এলাকার একটা বৃহৎ অংশের মানুষের। রোপন করা ধান পচে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এলাকার মানুষের। প্রত্যেকের দাবী দ্রুত বন্ধ হক এই জ্বলানি। তুলে নেওয়া হোক চামড়া।
advertisement
বাগবাড়ির বাসিন্দা তথা ধান চাষি দুলাল গায়েন বলেন, \"বানতলা চর্মনগরী থেকে গাড়ি গাড়ি ছাঁট চামড়া নিয়ে এসে আমাদের পাশের গ্রাম বৈরামপুরে বড়ো বড়ো কড়াইতে জ্বালানো হতো এখন সেখানে চামড়া জ্বালানো বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। সেই চামড়া সহ তার রাসায়নিক বৃষ্টির জলে ধুয়ে আমাদের ধান ক্ষেতে এসে পড়ে ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এর ফলে আমাদের হাজার হাজার টাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।\"তিনি আরও বলেন,\" প্রশাসন অবিলম্বে আমাদের ফসলের ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।\"
ফসলের ক্ষতি পূরণ সহ চামড়া অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার কৃষকরা। এ বিষয়ে বাগবাড়ির গোবিন্দ মন্ডল বলেন, আমারা আন্দোলন করে এলাকায় চামড়া পোড়ানো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু মজুত করা চামড়ার রাসায়নিকে আমাদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অবিলম্বে ওই চামড়া এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে হবে এবং আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।\" তিনি আরও বলেন,\"প্রশাসন আমাদের সমস্যার সমাধান না করলে ছেলে বৌ কে নিয়ে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।\"






