ঘটনার কথা সামনে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গত ১০ জুলাই সুন্দরবনের পঞ্চমুখানি জঙ্গল লাগোয়া কাপূরা নদীখাড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিখোঁজ হন বছর ৪৫ এর মহিলা সবিতা সরদার। ১৩ জুলাই সুন্দরবনের ঝিলা জঙ্গল সংলগ্ন কাঁকসা খালে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান বছর ৫৮-র মৎস্যজীবী ধরণী মণ্ডল। দুটি ক্ষেত্রে বনদফতরের অনুমতি ছাড়াই জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন মৎস্যজীবীরা। তবে দীনবন্ধু মন্ডল বনদফতরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন বলে পরিবার এর তরফ থেকে জানা গিয়েছে।
advertisement
বিগত চারদিন আগে দরিদ্র ওই মৎস্যজীবীর বড় দাদা পঞ্চানন মন্ডল মারা গিয়েছিলেন। পরিবারে অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই করুণ। যার ফলে পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের জন্য টাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দাদার পারলৌকিক ক্রিয়া করার জন্য বনদফতর থেকে বৈধ অনুমতি নেন ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য। সুন্দরবনের জঙ্গলে তিনজন সঙ্গী বিপিন, সাধন ও ভোজন মন্ডল কে নিয়ে দীনবন্ধু বাবু কাঁকড়া ধরার জন্য রওনা দিয়েছিলেন গোসাবার সাতজেলিয়ার দু নম্বর এমলিবাড়ি গ্রাম থেকে। এরপর, সুন্দরবনের পাঁচ নম্বর ঝিলা জঙ্গল এলাকার নদীখাড়িতে কাঁকড়া ধরার জন্য তাদের ডিঙি নৌকা নোঙর করেছিলেন জঙ্গল ঘেঁষা নদীর তীর। কোন কিছু বোঝার আগেই নৌকার উপর দীনবন্ধুকে টার্গেট করে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুন্দরবনের এক বিশাল আকৃতির রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ঘটনায় ঘাবড়ে যান বাকি মৎস্যজীরা। শিকারকে ঘাড়ে থাবা বসিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাকি তিনজন বাঘের মুখ থেকে দীনবন্ধু কে উদ্ধার করার মরিয়া চেষ্টা করতে থাকেন। নৌকার বৈঠা আর কাঁকড়া ধরার শিক নিয়ে বাঘের সাথে লড়াই করে তারা।
দীর্ঘপ্রায় মিনিট চল্লিশ রুদ্ধঃশ্বাস লড়াই চলে। অবশেষে রয়্যাল বেঙ্গলের ভয়ঙ্কর মূর্ত্তির সামনে নিরুপায় হয়ে রণে ভঙ্গদেয় তিন মৎস্যজীবী। বাঘ তার শিকার কে ঘাড় মটকে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গা ঢাকা দেয়। তিন সঙ্গী নৌকা নিয়ে ফিরে আসেন এমলিবাড়ি গ্রামের ঘাটে। দুঃসংবাদের খবর পৌঁছায় গ্রামে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন দীনবন্ধু মণ্ডলের স্ত্রী অরুণা মন্ডল। অন্যদিকে, এমন দুঃসংবাদ শোনামাত্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ওই মৎস্যজীবীর শ্যালক।একই পরিবারে চারদিনে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা শিক্ষক স্বপন মন্ডল বলেন “দরিদ্র মৎস্যজীবীরা রুটিরুজীর টানে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলের নদীখাড়িতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের সম্মূখীন হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন।মন্ডল পরিবারের উপর যে এমন ভাবে ভয়ংঙ্করতম বিপর্যয় নেমে আসবে তা কল্পনা করতে পারেননি। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা’।






