বিরোধীদের বক্তব্য, রাজ্যের কোন পুরসভাতেই এমন ভাবে পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজপুর- সোনারপুর পুরসভা, পরিষেবা নিতে আসা মানুষদের কি এমন নির্দেশিকা দিতে পারে? তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
পুরসভা সূত্রে খবর, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার রাজপুর কার্যালয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু মানুষ বার্মুন্ডা, হাফপ্যান্ট পরে কার্যালয়ে আসছেন বিভিন্ন রকম নাগরিক পরিষেবা নিতে। সেই অবস্থাতেই অনেকে চেয়ারে বসে পায়ের ওপর পা তুলে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকছেন। তাতে শুধু পুর কর্মী নয় পরিষেবা নিতে আসা অন্যান্য মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের অস্বস্তি বাড়ছে। এ নিয়ে কেউ কেউ অনুযোগের সুরে আধিকারিকদের দু চার কথাও শুনিয়েছেন। অভিযোগ, কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক যুবক হাফ প্যান্টের থেকেও ছোট একটি প্যান্ট পরে রাজপুর অফিসে আসেন কিছু ব্যক্তিগত কাজে। যা দেখে অস্বস্তিতে পড়েন এক পুরকর্তা। তিনি ওই যুবককে বলেন, বাড়ি থেকে ভাল পোষাক পরে আসতে। এরপরই কথা কাটাকাটি হয় দুজনের মধ্যে। ওই যুবক হুমকির সুরে বলেন, ‘কি পোষাক পরে আসবো সেটা নোটিশ বোর্ডে লিখে দেবেন। কোন কিছু লেখা না থাকলে যা খুশি তাই পরে আসবো।‘ এর পর পুরসভার এক গ্রুপ ডি কর্মচারী তাকে ফুলফ্যান্ট পরে আসার পরামর্শ দেন। যুবক পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তার কোন ফুলপ্যান্ট নেই।
advertisement
আক্ষেপের সুরে ওই পুর কর্তা বলেন,’এখনও ভাল করে বর্ষা শুরু হয়নি, তাতেই এই ব্যবস্থা। বেশি বৃষ্টি হলে কিংবা রাস্তায় জল জমলে এঁরা তো গামছা পড়ে অফিসে চলে আসবে দেখছি!’ বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন বিরোধীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগণার(পূর্ব) বিজেপির সভাপতি সুনীপ দাস বলেন, ‘পুরসভা কর্তৃপক্ষ এ ভাবে পোষাক ফতোয়া দিতে পারেন না। তালিবানিরা এমন ফতোয়া দেয়। বরং পুরসভা নিজের কাজ টা ঠিক করে করুক। কিভাবে জমা জল বার করা যায়, এলাকার উন্নয়ন করা যায় সেদিকে নজর দিক।‘
রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার প্রশাসক পল্লব দাস বলেন, ‘কে বা কারা ওই পোষ্টার লাগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন কোন পোষ্টার লাগাতে বা পোষাক বিধি চালু করার কথা আমি বলিনি। তবে এটা ঠিক, কিছু মানুষ অতিরিক্ত স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন, অসভ্যতা করছেন।যা বরদাস্ত করা যায় না।‘ পুরসভার এই পোশাক ফতোয়া নিয়ে সরব হয়েছেন বুদ্ধিজীবী থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।






