২০২০ সালের প্রথম দিকে ব্যারেজের গেট ভেঙে বিপত্তি দেখা দেয়। ১ নম্বর লকগেট ভেঙে বেরিয়ে যায় সংরক্ষিত সব জল। এরপর এক নম্বর লকগেট সরিয়ে নতুন লকগেট বসানো হয়। কিন্তু সে সময় ব্যাপক জল সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল শিল্পনগরী দুর্গাপুরকে। সেচ দপ্তরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন অনেকে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এর জেরে এই ঘটনা হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছিলেন বহু মানুষ।
advertisement
তারপরেই সেচ দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয় ব্যারেজের দুর্বল লকগেটগুলি বদল করা হবে। ধীরে ধীরে সেই কাজ সম্পন্ন হবে। পরিকল্পনামাফিক ইতিমধ্যেই দু'দফার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার কাজ। আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারেজে কাজ চলবে। সেই জন্য নোটিশ দিয়ে ফের ব্যারেজের ওপর সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাত ১১ টা থেকে ভোর ছ'টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এই মর্মে দুর্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে যানচলাচল বন্ধ থাকার জন্য, অসুবিধায় পরছেন অনেকে। অন্যদিকে, দীর্ঘ দিনের পুরনো দামোদরের এই বাঁধটির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে, এই মেরামতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। সেজন্য মানুষের একটু অসুবিধা হলেও, আগামী দিনের কথা ভেবে চলছে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ।
উল্লেখ্য দুর্গাপুর ব্যারেজের ওপর যান চলাচল ২২ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হলেও, আপৎকালীন পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স সহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত গাড়ি গুলি ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ব্যারেজের ওপর যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন পণ্যবাহী গাড়ি চালকরা। কারণ যে সময় দুর্গাপুর ব্যারেজের সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে, সে সময় যাত্রীবাহী গাড়ি বা বাইক চলাচল বিশেষ করে না। রাত বাড়লে, সেতুর ওপর বাড়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল। ফলে তারাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সমস্ত গাড়ির চালকদের ব্যারেজের রাস্তা বন্ধ থাকার জন্য, রানীগঞ্জ-মেজিয়া হয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে। তাছাড়াও পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে খরচ বাড়ছে ট্রাক মালিকদের। তার প্রভাব স্থানীয় বাজারগুলিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
সাধারণ মানুষের অসুবিধা হলেও, এই সংরক্ষণ ও মেরামতের কাজ যে অবশ্যম্ভাবী, সেকথাও সকলে এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন। তাই আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ঘুর পথে যেতে রাজি সকলেই। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে সাধারণ মানুষ থেকে গাড়িচালকরা বলছেন, যত দ্রুত কাজ শেষ হয়, ততই তাদের পক্ষে মঙ্গল। ব্যারেজের সংরক্ষণ প্রয়োজনীয়। তাই তারা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।






