স্থানীয় মানুষজন বলেন, বনকাটির ৯৫০ বছরের পুরনো এই পুজোর উল্লেখ রয়েছে ধর্মমঙ্গল কাব্যে। ধর্মমঙ্গল কাব্যে কথিত আছে, রাজা বল্লাল সেনের ধর্মগুরু, আচার্য মহেশ্বর প্রসাদ বন্দোপাধ্যায় এই পুজো শুরু করেছিলেন। বল্লাল সেন অজয় নদী পেরিয়ে কাঁকসার এই জায়গায় তার নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। সে সময় তার ধর্মগুরু আচার্য মহেশ্বর প্রসাদ এইখানে দেবী কালিকার আরাধনা শুরু করেন।
advertisement
সে সময় দেবী কালিকার জন্য বহু টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল মন্দির। তবে কালের নিয়মে সেই মন্দিরের এখন ভগ্নদশা। জৌলুস কমেছে অনেক। তবে হারায়নি পুজোর ঐতিহ্য। এখনো পুরনো রীতি মেনে চলে আসছে পুজো। বনকাটির জঙ্গলে ঘেরা এলাকার মধ্যে রয়েছে দেবীর মন্দির। মন্দির সংলগ্ন জায়গায় রয়েছে তিনটি শিব মন্দির। রয়েছে একটি লক্ষ্মী দেবীর মন্দির। মন্দির সংলগ্ন পরিবেশ বেশ গা ছমছমে। মন্দিরের গায়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে বট গাছের ঝুরি। তার মধ্যেই অবস্থান করেন দেবী। প্রতিবছর দীপান্বিতা অমাবস্যায় মহা ধুমধামের সঙ্গে হয় পুজো।
বনকাটি হাজার বছর ছুঁতে চলা এই পুজোয় ভিড় হয় ভক্তদের। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ ছুটে আসেন। এখানে কেউ মায়ের দর্শন পেতে অপেক্ষা করেন রাত জেগে। কেউ আবার মনস্কামনা পূরণের বাসনা নিয়ে দেবীর শরণাপন্ন হন। পুজোর দিন স্থানীয় লোকজন ছাড়াও আশপাশের গ্রামের মানুষ এখানে পুজো দেখতে জড়ো হন।
এখানের কালীপুজোয় নিশি পুজোর রেওয়াজ রয়েছে। তাছাড়া পুজোতে ছাগ বলি হয়। হয় মহিষ বলি এবং ভেড়া বলি। তাছাড়াও পুজোর পরের দিন অন্নকূটের ব্যবস্থা করা হয়। ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবছরও পুরনো সব রীতিনীতি মেনে আয়োজন করা হচ্ছে পুজোর। রাত পোহানোর অপেক্ষা। তারপরে বনকাটির কালীমন্দিরে শুরু হবে উৎসব। শুরু হবে শ্যামার আরাধনা।
Nayan Ghosh






