সময়মত রোগ শনাক্ত হলে জীবনহানির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। সাধারণত এই রোগের লক্ষণ হিসেবে টানা ১০ থেকে ১৫ দিন জ্বর, পেট ফুলে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া এবং রক্তাল্পতা দেখা যায়। রোগ নির্ণয়ের জন্য আরকে-৩৯ নামে একটি বিশেষ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় পজিটিভ ফল এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কালাজ্বর রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
advertisement
এক স্বাস্থ্যকর্মী ঝর্না সরকার জানান, “গ্রামস্তরে নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন জ্বরে ভোগা কোনও ব্যক্তি থাকলে তাকে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কালাজ্বর ধরা পড়লে রোগীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।”
এ বিষয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পার্থ সরকার বলেন, “কালাজ্বর সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। সরকার এই রোগ নির্মূলে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রোগীদের জন্য ওষুধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রোগীর পুষ্টির কথা মাথায় রেখে ৬ হাজার টাকার খাবার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসাকালীন সময়ে কাজ করতে না পারার ক্ষতি পোষাতে রোগীর হাতে ৫০০ টাকা ওয়েজ লস হিসেবেও তুলে দেওয়া হয়।”
স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন জ্বর, পেট বা পা ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময়মত চিকিৎসাই কালাজ্বর মোকাবিলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এমনই বার্তাই দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
জিএম মোমিন





