শিক্ষক হিসেবেও তাঁর কর্মজীবন ছিল দীর্ঘ। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি চকরসুল ইন্দ্রনারায়ন শিক্ষানিকেতনে শিক্ষকতা করেন। এর পর ২০০১ সাল পর্যন্ত মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত মুগবেড়িয়া ভোলানাথ সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ে স্বল্পকালীন অধ্যাপনা করেন। পরে ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যাসাগর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু অবসর নেওয়ার পরও বিশ্রাম নেননি বরং আরও বেশি সময় দিয়েছেন গবেষণা ও লেখালেখিতে। ইতিহাসের অজানা অধ্যায় খুঁজে বার করাই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান কাজ।
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, কাঁথি, ভগবানপুর ও পটাশপুরের ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণার শেষ নেই। স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু অজানা তথ্য তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মেদিনীপুর চরিতাভিধান’, ‘বিয়াল্লিশের অগাস্ট বিপ্লবে কাঁথি’, ‘অবিভক্ত কাঁথি মহকুমার ইতিবৃত্ত’, ‘প্রসঙ্গ: কাঁথি’ (২০০৩), ‘পটাশপুরের সেকাল একাল’, ‘ভগবানপুর ও ভূপতিনগর থানার ইতিহাস’ এবং দুই খণ্ডে ‘মেদিনীপুর আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থ’। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পৈতে কিংবা কুরুশ কিংবা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে। ‘পায়ে পায়ে হাঁটি’ (২০০৫) তাঁর আরেকটি কবিতার বই। এছাড়া লিখেছেন জীবনীগ্রন্থ ‘দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ’ (১৯৮১), ‘আমাদের মাস্টার মশাই’ (১৯৯৮) ও ‘স্বামী জগদীশ্বরানন্দ’ (২০০২)। অসংখ্য প্রবন্ধ ও কবিতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
শুধু লেখাই নয়, সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ১৩৭৬ বঙ্গাব্দ থেকে সম্পাদনা করেছেন ‘মহুয়া’, যা পরে ‘মালঞ্চ’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে সম্পাদনা করেছেন ‘সন্ধানী’ এবং ১৯৮৪ সাল থেকে ‘মাটির আঁচল’। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। আজ বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে। কিন্তু মানসিক শক্তি এখনও অটুট। প্রতিদিন নিয়ম করে লিখে চলেছেন নতুন নতুন গ্রন্থ। তাঁর লেখার মাধ্যমে আজকের প্রজন্ম জানতে পারছে দক্ষিণ মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সংস্কৃতির অজানা ইতিহাস। বয়স তাঁর কাছে শুধু একটি সংখ্যা। কাজই তাঁর আসল পরিচয়।





