মাদুর, চাটাই-সহ গ্রামীণ কুটিরশিল্পের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পশরা সাজিয়ে বসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। প্রসঙ্গত, নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চি গ্রামে চক্রবর্তী পরিবারের প্রাচীন এই রথযাত্রা এবারে ৪২২ তম বর্ষে পদার্পণ করল। সেই উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই চক্রবর্তী পরিবারে এই রথযাত্রা নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়। পারিবারিক প্রাচীন প্রথা ও ঐতিহ্য মেনে মন্দির থেকে কুলদেবতা রসিকরাই জীউ রথে চড়ে আসেন মেলা প্রাঙ্গণে। সকালে তিথি মেনে ২২ গজ প্রতীকী রথ টানা হয়। এরপর বিকেলে কয়েক হাজার ভক্ত সমাগমে রথের রশিতে টান দিয়ে এই রথে চড়ে রসিক রাই জীউ মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রথ মাসির বাড়ি যাওয়ার পথে কয়েক কুইন্টাল বাতাসা হরির লুট দেওয়া হয়।
advertisement
জেলার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, ২৪ পরগনা থেকেও বহু মানুষজন ভিড় জমায়। মেলা কমিটির সম্পাদক রামশঙ্কর চক্রবর্তী বলেন “১০১০ বঙ্গাব্দে এই রথযাত্রার প্রচলন করেন খঞ্চির চক্রবর্তী পরিবারের পূর্বপুরুষ স্বর্গীয় নিধিরাম চক্রবর্তী। সেই থেকে আজও এই মেলা হয়ে আসছে। ১৪০ বছর আগের মেলার অনুমতি পত্র সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। এই রথে অধিষ্ঠান করেন চক্রবর্তীর পরিবার এর কুলদেবতা রসিকরাই জীউ ঠাকুর। বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম হয়। ভক্তরা তাদের মানত করা বাতাসা হরির লুট দেয়। আগামী প্রায় সপ্তাহব্যাপী উল্টো রথযাত্রা পর্যন্ত চলবে এই মেলা।”
আরও পড়ুন : শয়ে শয়ে কুমির কিলবিল করছে এই নদীতে! বইছে জনবহুল ঘিঞ্জি শহরের মাঝে! চিনে নিন কোনটা “ভারতের কুমির নদী”
নন্দকুমার ব্লকের এই রথযাত্রা ঘিরে প্রতিবছর মানুষের উন্মাদনা লক্ষ করা যায়। মাঘী পূর্ণিমার সন্ধ্যায় হাজার হাজার ভক্ত সমাগমে রথযাত্রার অনুষ্ঠান সূচিত হয়। সাধারণত আষাঢ় মাসে রথ হলেও, মাঘী পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে অসময়ে এই রথযাত্রা প্রতিবছর ধূমধামে সহিত হয়ে আসছে।





