স্থানীয়দের মতে, একসময় গৌড়ের শাসকরা এই দুই স্তম্ভে তাদের হাতি বেঁধে রাখতেন। সেই কারণেই এলাকায় এটি ‘হাতি বাঁধা থাম’ নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই স্থানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক দাস জানান, “এই জায়গাটিকে সবাই হাতি বাঁধা থাম নামে চেনে। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, এখানে নাকি গৌড়ের রাজাদের হাতি বেঁধে রাখা হত। সেই কারণেই এই নামটি প্রচলিত হয়েছে।”
advertisement
তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই ধারণার সঙ্গে বাস্তব ইতিহাসের মিল নাও থাকতে পারে। ইতিহাস গবেষক এম আতাউল্লাহ জানান, “গৌড় শাসনামলে হাতি ও ঘোড়ার ব্যবহার থাকলেও বর্তমানে গৌড় এলাকায় হাতি রাখার নির্দিষ্ট কোনও পিলখানা বা স্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।” তাঁর মতে, এই দুই স্তম্ভ আসলে গৌড়ের কোনও প্রাচীন নির্মাণের ভেঙে পড়া অংশের অবশিষ্ট নিদর্শন। তিনি আরও জানান, “এই স্তম্ভ দুটির গঠন ও নকশার সঙ্গে গৌড়ের ঐতিহাসিক বারোদুয়ারি মসজিদের স্থাপত্যের অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে কীভাবে সেই নির্মাণের অংশ এত দূরে এসে পড়ল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।”
বর্তমানে এই প্রাচীন স্তম্ভ দুটি পুরাতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সুরক্ষার জন্য চারদিক ঘিরে রাখা হয়েছে। তবুও আজও গৌড় নগরীর পথে যাতায়াতের সময় রাস্তার পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই স্তম্ভ ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের মধ্যে কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। সম্পূর্ণ ইতিহাস এখনও অজানা হলেও, গৌড় নগরীর প্রাচীন ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে আজও পরিচিত এই রহস্যময় হাতি বাঁধা থাম বা স্তম্ভ।
জিএম মোমিন





