পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকছেন এডিজি কোস্টাল। তাঁর তত্ত্বাবধানে সভার নিরাপত্তা পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকছেন অ্যাডিশনাল সিপি, জয়েন্ট সিপি এবং একাধিক এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিকও। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সরাসরি তদারকিতে গোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে।
গ্যাস সিলিন্ডার নেই? রান্না বন্ধ করতে হবে না! জেনে নিন গ্যাস ছাড়া রান্নার ১০টি বিকল্প উপায়
advertisement
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। শুধু জনসমাগম নয়, সভার মঞ্চসজ্জাতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। হিন্দুত্বের বার্তা এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগ—এই দুইকে একসঙ্গে তুলে ধরতেই মঞ্চের নকশায় রাখা হয়েছে বিশেষ ভাবনা।আয়োজক সূত্রে জানা গিয়েছে, সভার মূল মঞ্চটি তৈরি করা হচ্ছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। বাংলার অন্যতম ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপত্যের ছাপ তুলে ধরতেই এই নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। মঞ্চের দু’পাশে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতীক তুলে ধরা হবে।
সভাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ৫০টিরও বেশি পুলিশ পিকেট বসানো হচ্ছে বলে খবর। এই পিকেটগুলির মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রবেশপথ ও যানবাহন চলাচলের উপর নজর রাখা হবে।
দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে মঞ্চ, আয়োজনে বাঙালি ছোঁয়া! মোদির ব্রিগেড সফল করতে মরিয়া বিজেপি
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সভাস্থল এবং তার আশপাশের রাস্তা আলাদা আলাদা সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশকর্মীরা নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্ব পালন করবেন।
সভাস্থলে বসানো হচ্ছে প্রায় ২ লাখ চেয়ার। পাশাপাশি বিশেষ অতিথিদের জন্য রাখা হচ্ছে ১২০০ ব্যাঙ্কোয়েট চেয়ার এবং প্রায় ১০০টি সোফা। দর্শকদের যাতে দূর থেকেও বক্তৃতা স্পষ্টভাবে দেখা ও শোনা যায়, তার জন্য মাঠের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হচ্ছে ৩৫টি বড় এলইডি স্ক্রিন।
সভাস্থলকে সাজাতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার দলীয় পতাকা। পাশাপাশি থাকছে ৫০০টি ফ্লেক্স ও ৫০টি বড় কাট আউট। নজর কাড়তে আকাশে উড়বে ২০টি জ্যাম্বো বেলুন, যার মধ্যে পদ্মফুলের প্রতীক এবং তার ভিতরে প্রধানমন্ত্রীর ছবি থাকছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গিয়েছে।
মাঠের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা সামলাতে মোতায়েন থাকবেন প্রায় ১২০০ স্বেচ্ছাসেবক। তারা দর্শকদের বসার ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবেন।
এদিকে সভার মূল আকর্ষণ মঞ্চও তৈরি করা হয়েছে বড় আকারে। মঞ্চের মাপ প্রায় ১২০ ফুট বাই ৭০ ফুট। এখান থেকেই ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপস্থিত থাকবেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সভাস্থলে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ মনিটরিং করা হবে। কোনও সন্দেহজনক নড়াচড়া বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে নিরাপত্তায় কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। বহুস্তরীয় নজরদারি ও বিপুল পুলিশ মোতায়েনের মধ্য দিয়ে গোটা ব্যবস্থাকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
